শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথেই বাবা-মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে বিশেষ করে শিশুর স্নান (Chlid Bath)ও স্বাস্থ্য নিয়ে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা থাকায়, শিশুদের ঠান্ডা লাগা থেকে বাঁচাতে স্নানের সঠিক নিয়ম জানা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়া যেমনই হোক, শিশুর স্নান একেবারে বন্ধ করা উচিত নয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রিয়ঙ্কর পালের মতে, শীতের শুষ্ক বাতাসে শিশুদের স্পর্শকাতর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে স্নান করানো প্রয়োজন। তবে যাদের অ্যালার্জি বা প্রবল ঠান্ডা লাগার ধাত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে স্নানের বদলে ঈষদুষ্ণ জলে শরীর স্পঞ্জ করানো যেতে পারে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!স্নানের সঠিক সময় ও নিয়ম: শিশুকে খুব ভোরে বা বেশি বেলা করে স্নান করানো ঝুঁকিপূর্ণ। সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে, যখন রোদের তেজ কিছুটা বাড়ে, সেই সময়টি স্নানের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। স্নানের জল হতে হবে ঈষদুষ্ণ; খুব বেশি ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করা যাবে না। স্নান করানোর সময় ৫ থেকে ৭ মিনিটের বেশি হওয়া উচিত নয়। স্নান শেষ হওয়া মাত্রই শিশুকে তোয়ালে দিয়ে ভাল করে মুড়িয়ে ফেলতে হবে যাতে ঠান্ডা হাওয়া না লাগে। স্নানে গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করা ভালো এবং প্রতিদিন শ্যাম্পু করানোর প্রয়োজন নেই। স্নানের পর দ্রুত পোশাক, মোজা ও টুপি পরিয়ে কিছুক্ষণের জন্য রোদে রাখতে পারলে শিশু আরাম পাবে।
ত্বকের যত্ন: শীতে শিশুদের ত্বকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। স্নানের আগে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। স্নানের পর অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার মাখাতে হবে। প্রাকৃতিকভাবে ত্বক নরম রাখতে অ্যালোভেরা, দুধ ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে আগে দেখে নিতে হবে এতে শিশুর অ্যালার্জি আছে কি না। এছাড়া রোদে খেলাধুলা করলে শিশুদের ত্বকেও সানট্যান হতে পারে, তাই বাইরে বেরোনোর আগে এসপিএফ ২০ বা ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন মাখানো জরুরি।
সতর্কতা: যদি কোনো শিশু নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাল সমস্যা বা সময়ের আগে (Pre-term) জন্মে থাকে, তবে তার স্নানের বিষয়ে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়ম মেনে চললে শীতের এই হিমেল হাওয়ায় আপনার সোনামণি থাকবে একদম সুরক্ষিত ও সতেজ।