শীতের শুরুতেই বাতাসে দূষিত কণার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং যারা হাঁপানি বা সিওপিডি-র মতো সমস্যায় ভুগছেন, দূষণের প্রভাবে তাঁদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ফুসফুসকে প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী করতে নিয়মিত কিছু ‘ব্রিদিং এক্সারসাইজ’ বা শ্বাসের ব্যায়াম (Breathing Exercise) করা জরুরি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নিচে ফুসফুস চাঙ্গা রাখার তিনটি কার্যকর ব্যায়ামের পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. অ্যাব ব্রিদিং (Abdominal Breathing): এটি করার জন্য শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসনে বসতে হবে। এরপর নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হবে এবং ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, শ্বাস নেওয়ার সময় নাভি যেন বাইরের দিকে ফুলে ওঠে এবং ছাড়ার সময় ভেতরের দিকে ঢুকে যায়। সাত-আটবার এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ফুসফুসের গভীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।
২. কপালভাতি (Kapalbhati): ফুসফুসের নালি পরিষ্কার রাখতে কপালভাতি অত্যন্ত কার্যকর। আরামদায়ক আসনে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে চোখ বন্ধ করতে হবে। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিয়ে ছাড়ার সময় পেটের পেশিতে চাপ দিয়ে দ্রুত গতিতে শ্বাস ছাড়তে হবে। যারা নতুন শুরু করছেন, তারা দশবার শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে একটি সেট পূর্ণ করবেন। এভাবে মোট পাঁচটি সেট করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
৩. ভুজঙ্গাসন (Cobra Pose): এই আসনটি বুকের পেশি প্রসারিত করে এবং ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। ম্যাটের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের তালু পাঁজরের দু’পাশে রেখে কোমর পর্যন্ত শরীরকে উপরে তুলতে হবে। এরপর মাথা ওপরের দিকে তুলে ২০-৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থাকতে হবে। নিয়মিত তিনবার এই অভ্যাস করলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেকটাই লাঘব হয়।
শীতকালীন দূষণ থেকে বাঁচতে এবং অ্যালার্জিজনিত হাঁচি-কাশি কমাতে এই ব্যায়ামগুলো প্রতিদিন সকালে অভ্যাসে রাখা প্রয়োজন। এতে ফুসফুসের পেশি মজবুত হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।