পৌষের হাড়কাঁপানো শীতের কামড় যত বাড়ছে, বাঙালির রান্নাঘরে পিঠেপুলির সুবাস ততই ম-ম করছে। তবে নলেন গুড় (Nolen Gur) কেবল রসনাতৃপ্তির উপকরণ নয়; এটি একটি প্রকৃত ‘সুপারফুড’। স্বাদের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের এক ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে এই প্রাকৃতিক মিষ্টির আড়ালে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নলেন গুড়ের বিস্ময়কর স্বাস্থ্যগুণ:
-
তাতক্ষণিক জীবনীশক্তি: নলেন গুড় কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি সঞ্চার করে সারা দিন চনমনে রাখতে সাহায্য করে। শীতের আলস্য কাটিয়ে শরীরকে সচল রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার।
-
হজমশক্তির উন্নতি: শীতকালে ভোজনরসিক বাঙালির হজমের সমস্যা লেগেই থাকে। গুড়ে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: মরশুম বদলের সর্দি-কাশি বা জ্বরের হাত থেকে বাঁচতে নলেন গুড় মহৌষধ। এতে থাকা আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়ায় এবং পেশি মজবুত করে।
-
শরীর উষ্ণ রাখা ও টক্সিন মুক্তি: নলেন গুড় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, যা শ্লেষ্মাজনিত সমস্যায় অত্যন্ত কার্যকর। এ ছাড়া এটি লিভার ও পাকযন্ত্র থেকে ক্ষতিকর টক্সিন নির্গত করে রক্ত বিশুদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।
কীভাবে শামিল করবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়?
চিনির ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য নলেন গুড় ব্যবহারের বহুমুখী উপায় রয়েছে। সকালের চা বা কফিতে চিনির বিকল্প হিসেবে অনায়াসে নলেন গুড় মেশানো যায়। যারা স্বাস্থ্য সচেতন, তারা ওটসের সঙ্গে এই গুড় মিশিয়ে পুষ্টিকর জলখাবার তৈরি করতে পারেন। বাঙালির প্রিয় পায়েস, সন্দেশ বা পাটিসাপটার স্বাদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় নলেন গুড়। এমনকি রুটি বা পরোটার সঙ্গেও এটি খাওয়ার চল বেশ জনপ্রিয়।
শীতের এই অল্প কটা দিন তাই শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং রসনার তৃপ্তি ঘটাতে পাতে নলেন গুড় রাখা এক বুদ্ধিমানের কাজ।