বাঙালির কাছে ‘দেওঘর’ চিরপরিচিত হলেও ওড়িশার ‘দেওগড়’ (Deogarh) আজও অনেকের কাছে এক অজানা রোমাঞ্চ। ঝর্না, পাহাড়, অরণ্য আর জলাধারে ঘেরা এই জেলা শহরটি শীতকালীন ভ্রমণের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য। ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চাইলে দু-তিন দিনের ছুটিতে ওড়িশার এই পাহাড়ি জনপদটি ঘুরে আসতেই পারেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!দর্শনীয় স্থান: দেওগড় শহরের প্রধান আকর্ষণ হলো প্রধানপাট জলপ্রপাত। পাহাড় ও বনের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা এই জলপ্রপাতটির পাশেই রয়েছে রাজা দিব্যসুন্দর দেবের তৈরি ঐতিহাসিক বাংলো ‘বসন্ত নিবাস’। ১৮৫৪ সালে নির্মিত প্রাচীন ঝাড়েশ্বর মন্দির এবং ওড়িশি স্থাপত্যে গড়া জগন্নাথ মন্দির এ অঞ্চলের ধর্মীয় আভিজাত্যের পরিচয় দেয়। ইতিহাসের টানে ঘুরে নিতে পারেন পাহাড়ঘেরা কৈলাস প্যালেস, যা বর্তমানে একটি ইকো-ট্যুরিজম সাইট।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে পাহাড়বেষ্টিত গোহিরা বাঁধ, যা পিকনিক স্পট হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া বনদুর্গা মন্দির ও কটাসর ঘাট শিব মন্দিরের চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মন ভালো করে দেয়। একটু রোমাঞ্চ চাইলে ঘন জঙ্গলে ঢাকা কুলাদেরা জলপ্রপাত কিংবা কুরুদকুট ও দেওঝরন জলপ্রপাত দেখে নিতে পারেন।
ভ্রমণ পরিকল্পনা:
-
প্রথম দিন: সকালে পৌঁছে প্রধানপাট জলপ্রপাত ও বসন্ত নিবাস দেখে নিন। বিকেলে গোহিরা বাঁধে সূর্যাস্ত উপভোগ করে সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যেতে পারে।
-
দ্বিতীয় দিন: প্রাতরাশ সেরে জগন্নাথ মন্দির, কৈলাস প্যালেস এবং কটাসর ঘাট ঘুরে আসুন। বিকেলে ফিরতি পথে ঝাড়েশ্বর মন্দির দর্শন করুন।
-
তৃতীয় দিন: কুরুদকুট বা দেওঝরন জলপ্রপাত দেখে সফরের সমাপ্তি ঘটাতে পারেন।
যাতায়াত ও থাকা: দেওগড় পৌঁছানোর জন্য নিকটতম রেলস্টেশন হলো সম্বলপুর এবং বিমানবন্দর ঝারসুগুদা। হাওড়া থেকে ‘সমলেশ্বরী এক্সপ্রেস’ বা অন্য যেকোনো ট্রেনে সম্বলপুর পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে দেওগড় যাওয়া যায় (দূরত্ব ৯২ কিমি)। সম্বলপুর থেকে যাওয়ার পথে হীরাকুঁদ বাঁধ বা সমলেশ্বরী মন্দিরও দেখে নেওয়া সম্ভব। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস এখানে ঘোরার সেরা সময়। থাকার জন্য দেওগড় শহরে বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে।
অচেনা পাহাড় আর অরণ্যের মায়াবী ডাকে এবারের শীতটা কাটিয়ে আসুন ওড়িশার এই দেবতার ঘরে।