নিউ ইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)চাইলে যে পেশাদার অভিনেতা হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিতে পারতেন, সে কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তাঁর মা, প্রখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ার। মীরার কথায়, ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি জোহরানের স্বাভাবিক ঝোঁক ছিল এবং সেই কারণেই তিনি বিশ্বাস করতেন, অভিনয় জগতে তাঁর ছেলের সাফল্যের সম্ভাবনা ছিল যথেষ্ট। এমনকি মায়ের পরিচালিত ছবিতেই জোহরানের অভিনয়ে হাতেখড়ি হতে পারত বলেও জানান তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মীরা নায়ারের ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘মনসুন ওয়েডিং’ আজও বিশ্বজুড়ে দর্শকদের অন্যতম প্রিয় ছবি হিসেবে বিবেচিত। সেই ছবিতেই প্রথমবার জোহরানকে কাস্ট করার কথা ভেবেছিলেন মীরা। ছেলের অভিনয় দক্ষতা তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, তিনি মনে করেছিলেন ছবির জন্য জোহরান একেবারে উপযুক্ত। তবে নানা কারণে শেষ পর্যন্ত জোহরানকে পর্দায় দেখা যায়নি। তবুও ছবির সঙ্গে তিনি পুরোপুরি যুক্ত ছিলেন। অভিনয় না করলেও ‘মনসুন ওয়েডিং’-এর প্রস্তুতি পর্বে ও ওয়ার্কশপে তিনি নানা দায়িত্ব সামলেছিলেন বলে জানান মীরা।এক সাক্ষাৎকারে মীরা নায়ার বলেন, ওয়ার্কশপ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত উপযুক্ত অভিনেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই সময় জোহরান নিজেই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দেখান। ছেলের সেই অভিনয় দেখে তিনি রীতিমতো অবাক হয়ে যান এবং বুঝতে পারেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে জোহরানের প্রতিভা অনস্বীকার্য।
পরবর্তীতে মীরা নায়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ ‘আ স্যুটেবল বয়’-এর ক্ষেত্রেও তিনি জোহরানকে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু এবার আর মায়ের ইচ্ছা পূরণ হয়নি। জোহরান স্পষ্টভাবেই অভিনয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই ছবিতে অভিনয় করেন ইশান খট্টর। সব মিলিয়ে বলা যায়, অভিনয় জগতে প্রবেশের একাধিক সুযোগ থাকলেও জোহরান মামদানি নিজের পথ হিসেবে রাজনীতি ও জনসেবাকেই বেছে নেন। যদিও রুপোলি পর্দায় তাঁকে দেখা যায়নি, তবুও তাঁর অভিনয় প্রতিভা যে একসময় মীরা নায়ারের মতো পরিচালকেরও নজর কেড়েছিল, তা নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের এক আকর্ষণীয় ও অজানা অধ্যায়।