পাহাড়ের নৈঃশব্দ্য আর মেঘেদের লুকোচুরি যারা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য পশ্চিম সিকিমের (Sikkim) দুই গোপন রত্ন হলো ‘হি-পাতাল’ এবং ‘ছায়াতাল’। পর্যটন মানচিত্রের অতিপরিচিত এবং ঘিঞ্জি কেন্দ্রগুলো থেকে দূরে অবস্থিত এই গ্রাম দুটি আপনাকে দেবে প্রকৃতির এক আদিম ও স্নিগ্ধ ছোঁয়া।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!হি-পাতালের নিস্তব্ধতা: নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে ১৫১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হি-পাতাল গ্রামটি পেলিং-এর কাছে হলেও এর আমেজ একেবারে ভিন্ন। এখানে হোটেল বা রিসোর্টের ভিড় নেই, আছে শুধু পাখির ডাক আর সবুজের সমারোহ। ব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে যারা পাহাড়ি রোদে আলস্যে দিন কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এটি স্বর্গরাজ্য। ভাগ্য সহায় থাকলে এখান থেকে দেখা মেলে তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার ‘স্লিপিং বুদ্ধ’ রূপ। পাহাড়ের গায়ে রোদ আর মেঘের খেলা দেখতে দেখতেই এখানে সময় কেটে যায়।
ছায়াতাল ও পার্শ্ববর্তী আকর্ষণ: হি-পাতাল থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত ছায়াতাল। এই গ্রামটি গড়ে উঠেছে ‘ছায়া’ নামক একটি সুন্দর হ্রদ বা জলাশয়কে কেন্দ্র করে। লেকের চারধারে হেঁটে বেড়ানো বা নিরালা পরিবেশে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করার জন্য এটি আদর্শ। ট্রেকিং প্রেমীরা এখান থেকে ওখরে হয়ে ভার্সে রডোডেনড্রন ট্রেকের পথেও পা বাড়াতে পারেন। এছাড়া আশেপাশে ঘোরার জন্য রয়েছে বৌদ্ধ মঠ, হি-খোলা ওয়াটার পার্ক, সিংশোর ব্রিজ (এশিয়ার অন্যতম উচ্চতম ব্রিজ), উত্তরে গ্রাম এবং ডেনটাম চিজ ফ্যাক্টরি।
যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা:
-
কীভাবে যাবেন: এনজেপি থেকে সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে হি-পাতাল বা ছায়াতাল পৌঁছানো যায়। বাজেট ট্রাভেলাররা শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার জিপে জোরথাং এসে সেখান থেকে অন্য জিপে এই গ্রামগুলিতে যেতে পারেন।
-
কোথায় থাকবেন: পর্যটকদের জন্য দুই গ্রামেই বেশ কিছু আরামদায়ক হোম-স্টে রয়েছে। পাহাড়ের মানুষের আতিথেয়তা আর স্থানীয় খাবারের স্বাদ আপনার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।
শীতের রোদ হোক বা বর্ষার মেঘ—যেকোনো ঋতুতেই নির্জনতার স্বাদ নিতে পশ্চিম সিকিমের এই স্বল্পচেনা গন্তব্য দুটি হতে পারে আপনার পরবর্তী উইকএন্ডের ঠিকানা।