উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল এলাকায় কাঞ্চন নদীর তীরে অবস্থিত সুপ্রাচীন ভৈরবী মন্দিরটি (Bhairabi Temple)তার হৃত গৌরব ফিরে পেতে চলেছে। প্রায় পাঁচশ বছরের পুরনো, সুলতানি আমলের এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটি কালক্রমে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মন্দিরটির আদি ও অকৃত্রিম আদল ফিরিয়ে দেওয়ার এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প শুরু হয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ নজরদারি: উত্তরবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের সদস্য ও ইতিহাসবিদ আনন্দগোপাল ঘোষের মতে, ভাতুরিয়া জমিদার গণেশ নারায়ণ শিব ভক্ত ছিলেন এবং তাঁর আমলেই এই ভৈরবী মন্দির নির্মিত হয়। মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ (Directorate of Archaeology and Museum) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংস্কার কাজ পরিচালনা করছে। আর্কিওলজি বিভাগের প্রতিনিধি রানা দেবদাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল মন্দিরের স্থাপত্য পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করেছেন। কার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে সে আমলের ইট, চুন ও সুরকির মান নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সংস্কারের পর মন্দিরটি ঠিক ১৪শ শতকের শেষলগ্নের মতো দেখতে হয়।
প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন: তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের জেলা আধিকারিক শুভম চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এই সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৬৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে এবং পূর্ত দপ্তরের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। মন্দিরের প্রাচীন টেরাকোটার কাজ এবং কালো পাথরের ভৈরবী মূর্তির মূল ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ অক্ষত রেখে এই কাঠামো সংরক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছেন।
পর্যটন বিকাশের হাতছানি: প্রশাসন আশা করছে, কাঞ্চন নদীর পাড়ে অবস্থিত এই সুপ্রাচীন মন্দিরটি সংস্কার সম্পন্ন হলে উত্তর দিনাজপুরের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। ইতিহাসের অনুরাগী এবং সাধারণ পর্যটকদের কাছে এটি একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে। আদি সংস্কৃতির ছোঁয়ায় মন্দিরের অবিকল প্রতিলিপি তৈরি হলে তা কেবল ধর্মীয় স্থান হিসেবে নয়, বরং একটি হেরিটেজ সাইট হিসেবে জেলার অর্থনীতি ও পরিচিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।