আজকের ডিজিটাল যুগের অন্যতম বিস্ময় হলো চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)। জটিল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে শুরু করে সৃজনশীল লেখা বা ডেটা বিশ্লেষণ—সবই চোখের পলকে সম্পন্ন করে এই এআই (AI) মডেল। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কীভাবে এটি বিরতিহীনভাবে এত নির্ভুল ও দ্রুত কাজ করে? এর নেপথ্যে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!চ্যাটজিপিটি আসলে কী?
চ্যাটজিপিটি মূলত ওপেনএআই (OpenAI) দ্বারা তৈরি একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM)। এটি কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নয়, বরং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সফটওয়্যার সিস্টেম। কোটি কোটি বই, গবেষণাপত্র, সংবাদ এবং ওয়েবপেজ বিশ্লেষণ করে একে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে এটি মানুষের ভাষার ধরন ও তথ্য আদান-প্রদানের ভঙ্গি আয়ত্ত করে।
কাজের পদ্ধতি: মুখস্থ নয়, বিশ্লেষণ
অনেকের ধারণা চ্যাটজিপিটি হয়তো সব উত্তর মুখস্থ করে রাখে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কোনো প্রশ্ন করা হলে এটি প্রথমে শব্দগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক ও প্রসঙ্গ বুঝে নেয়। এরপর তার বিশাল ডেটাবেস থেকে গাণিতিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে শব্দ সাজিয়ে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও প্রাসঙ্গিক উত্তরটি তৈরি করে। অর্থাৎ, এটি তথ্য ‘মুখস্থ’ করে না বরং তথ্যের ‘বিশ্লেষণ’ করে তাৎক্ষণিক উত্তর তৈরি করে।
কেন এটি ক্লান্ত হয় না?
মানুষের মতো চ্যাটজিপিটির কোনো শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি নেই। এটি শক্তিশালী সার্ভার ও কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে চলে। যতক্ষণ বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ সচল থাকে, এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিতে সক্ষম। বিশ্রাম বা ঘুমের কোনো প্রয়োজন এর নেই।
তথ্যের উৎস ও সীমাবদ্ধতা
ওপেনএআই-এর গবেষকরা বিশাল ডেটাসেট দিয়ে এই মডেলটিকে তৈরি করেছেন। এর তথ্যের ভাণ্ডারে রয়েছে ইন্টারনেটের প্রকাশ্য কনটেন্ট ও বিভিন্ন গবেষণাপত্র। তবে মনে রাখা জরুরি যে, চ্যাটজিপিটি সবসময় ১০০ শতাংশ নির্ভুল তথ্য নাও দিতে পারে। কারণ এটি মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে না; এটি কেবল তার কাছে থাকা পরিসংখ্যান ও ডেটার ওপর ভিত্তি করে উত্তর দেয়।
চ্যাটজিপিটি আধুনিক বিজ্ঞানের এক অনন্য ডিজিটাল সহকারী। তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার আর গাণিতিক বিশ্লেষণের সমন্বয়ে এটি মানুষের কাজকে সহজ করে দিচ্ছে। যদিও এটি মানুষের বিকল্প নয়, তবে এর দ্রুততা ও সাবলীল ভাষা একে সমকালীন প্রযুক্তির শীর্ষে বসিয়েছে।