ঘন পাইনবনে ঘেরা পাহাড়ি গ্রাম, গাছের ফাঁক দিয়ে কখনও কুয়াশার আস্তরণ, আবার সেই মেঘের পর্দা সরে গেলেই রোদের ঝিলিক। আলো-ছায়ার খেলায় চারপাশে তৈরি হয় এক অনন্য দৃশ্য। শীতের হালকা হাওয়া আর রোদ মাখা সেই গ্রাম যেন ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পায়। এমনই এক নির্জন সৌন্দর্য নিয়ে এখনও অনেকের অগোচরেই রয়ে গিয়েছে পোখারিধুরা (Pokhari Dhura)। উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে যেখানে প্রতিদিনই নতুন রিসর্ট আর ভিড় বাড়ছে, সেখানে শান্তি খোঁজা পর্যটকদের জন্য পোখারিধুরা হয়ে উঠছে এক নতুন আশ্রয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গের ভ্রমণচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। তরাই-ডুয়ার্স কিংবা পাহাড়ি শহরগুলিতে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে বহুগুণ। সেই ভিড় আর কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চাইছেন প্রকৃতিপ্রেমীদের একাংশ। তাঁদেরই খোঁজে উঠে আসছে অফবিট গ্রামগুলি—রামধুরা, মাঝিধুরার মতোই পোখারিধুরা এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায়।
পোখারিধুরা মূলত অরণ্যঘেরা একটি ছোট গ্রাম। এখনও পর্যটকদের আনাগোনা খুব বেশি নয়। নিরালার খোঁজে আসা মানুষের জন্য এখানে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি রিসর্ট, যেখানে পাহাড়ি মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তায় থাকার অভিজ্ঞতা আলাদা মাত্রা পায়। এই গ্রামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন। মেঘ সরলে দিনের অনেকটা সময় জুড়ে চোখের সামনে ধরা দেয় বরফে মোড়া শ্বেতশুভ্র শৃঙ্গ। কাছাকাছি চা-বাগান, কাঠের বাড়ি আর পাহাড়ি পথ মিলিয়ে এই গ্রাম যেন আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় এক ধরনের বিরতি টেনে দেয়।
পোখারিধুরা ঘোরার সবচেয়ে ভালো উপায় হাঁটা। পায়ে জোর থাকলে পাহাড়ি পথে হেঁটে ঘুরে নেওয়া যায় গ্রাম, চা-বাগান আর আশপাশের অরণ্য। প্রতিটি বাঁকেই অপেক্ষা করে নতুন দৃশ্য। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে পাহাড়চূড়া চোখে না পড়লেও গ্রামের নিজস্ব সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দেবে। রাতে পোখারিধুরা থেকে দেখা যায় দার্জিলিং শহরের আলোঝলমলে দৃশ্য, যা পাহাড়ের বুকে ছড়িয়ে থাকা নক্ষত্ররাজির মতো মনে হয়।
ভিড় এড়িয়ে চলতে চাইলে এখান থেকে দু’-তিন দিন সময় নিয়ে দার্জিলিং শহর ঘুরে আসা যায়। কাছেই রয়েছে দাওয়াইপানি, যেখানে ডিসেম্বরে কমলালেবু ভরা গাছ মন কাড়ে। সেখান থেকে মংপুও যাওয়া যায়। অরণ্যঘেরা মংপুতে সিঙ্কোনা ও রবার গাছের চাষ হয়, আর রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাংলো।
যাতায়াতের জন্য ট্রেন বা বাসে নিউজলপাইগুড়ি কিংবা শিলিগুড়ি পৌঁছে, অথবা বিমানে বাগডোগরা নেমে গাড়িতে পোখারিধুরা যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দূরত্ব প্রায় ৫১ কিলোমিটার, দার্জিলিং থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। থাকার জন্য পোখারিধুরা ও মংপু—দু’জায়গাতেই রয়েছে উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা।