উত্তরবঙ্গের (Uttarbanga) অতিপরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় অনেকেই এখন খুঁজছেন শান্তির নীড়। এনজেপি-র টিকিট কাটা থাকলেও গন্তব্য নিয়ে যারা দ্বিধায় আছেন, তাঁদের জন্য উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াং সাবডিভিশনের মিডল সিটংয়ের তুরুক হতে পারে এক আদর্শ ঠিকানা। প্রায় ৪৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি এখনও অবিকৃত এবং নিস্তব্ধ প্রকৃতির মায়ায় ঘেরা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ধুপির জঙ্গলে ঘেরা ছবির মতো সাজানো তুরুক গ্রামটি ধাপে ধাপে চাষ করা ফুলকপি, বাঁধাকপি, রাইশাক আর কমলালেবুর বাগানে ভরপুর। এখানকার আঁকাবাঁকা পথে পাহাড়ি ফুলের সুবাস পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়। তুরুকের সকাল মানেই ঘরের জানলা দিয়ে তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন। কাছেই রয়েছে লেপচা ফল্স, রিয়াং নদী এবং আদিম চার্চ। বাঙালিদের নস্টালজিয়া উসকে দিতে এখান থেকে ঘুরে আসা যায় মংপুর রবীন্দ্র ভবনে, যেখানে কবিগুরু তাঁর শেষ জীবনের কিছু অমূল্য সময় কাটিয়েছিলেন।
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য তুরুক থেকে বাগোরা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের একটি চমৎকার ট্রেকিং রুট রয়েছে। ফার, পাইন আর ওকের জঙ্গল ভেদ করে ৭১০০ ফুট উচ্চতায় বাগোরা পৌঁছালে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অপরূপ দৃশ্য চোখে পড়ে। বাগোরার ঠিক পাশেই চিমনি গ্রাম, যা ব্রিটিশ আমলের তৈরি বিশাল এক চিমনির জন্য পরিচিত। এই পথে ভাগ্য সহায় হলে দেখা মিলতে পারে হিমালয়ান স্লথ বিয়ার, হরিণ বা জাঙ্গল ফাউলের। তবে জঙ্গল পথে গাইড সঙ্গে রাখা জরুরি।
তুরুকের অন্যতম আকর্ষণ হলো লেপচা আদলে তৈরি এখানকার সুন্দর হোমস্টেগুলো, যেখানে পাহাড়ের আতিথেয়তা পাওয়া যায় কানায় কানায়। এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে মংপু হয়ে সিটং পেরিয়ে তুরুকের দূরত্ব প্রায় ৬৮ কিমি, গাড়িতে সময় লাগে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো। থাকা-খাওয়া মিলিয়ে মাথাপিছু খরচ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। তাই শীতের ছুটিতে মেঘ-পাহাড়ের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যেতে চাইলে ভিড় এড়িয়ে তুরুক হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য।