বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং তথ্যের ভিড়ে সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার চেয়েও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের মানসিকতা বোঝা। এই অস্থির সময়ে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও বাণী মানুষের চেতনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন স্বামী বিবেকানন্দ অ্যানসেট্রাল হাউজ অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারের সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ মহারাজ। তাঁর মতে, স্বামীজির নাম ‘VIVEK’ (ভিভেক)-এর পাঁচটি অক্ষরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক আধুনিক জীবনদর্শন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নামের মাহাত্ম্য ও পাঁচ অক্ষরের গোপন অর্থ: স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ ‘VIVEK’ শব্দটিকে পাঁচটি গুণের সমন্বয়ে ব্যাখ্যা করেছেন:
-
V (Valour): শৌর্যবীর্য বা সাহস। স্বামীজি চেয়েছিলেন বজ্রের ন্যায় দৃঢ় মনের যুবসমাজ, যারা আদর্শের পথে মৃত্যুকেও ভয় পাবে না।
-
I (Integrity): সংহতি বা একতা। বর্তমান হানাহানির যুগে মিলেমিশে থাকাই শক্তির আসল উৎস।
-
V (Vedanta): বেদান্ত। যা শেখায় আমরা সবাই একই শক্তির অংশ, তাই জীবে প্রেম করাই ঈশ্বর সেবা।
-
E (Enthusiasm): উৎসাহ। যে কোনো অসাধ্য সাধনের জন্য প্রবল প্রাণশক্তির প্রয়োজন।
-
K (Knowledge): জ্ঞান। তবে তা কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং প্রকৃত মানুষ হওয়ার বোধ।
সাফল্যের সূত্র: মহারাজের মতে, স্বামীজি সাফল্যের একটি চমৎকার দিশা দিয়েছেন। কোনো কাজে সকলে মিলিত হওয়া হলো ‘শুরু’, একসাথে এগিয়ে চলা ‘অগ্রগতি’ আর মিলেমিশে সেই কাজ সম্পন্ন করাই হলো প্রকৃত ‘সাফল্য’। আজকের সমাজে কেবল মেধাবীদের কদর নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে চলাই সংহতির মূল কথা।
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য: স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন—বর্তমানে উচ্চশিক্ষিতরাই অনেক সময় সমাজের বেশি ক্ষতি করছে। তিনি ‘সাক্ষর’ (শিক্ষিত) শব্দটিকে উল্টে দিয়ে ‘রাক্ষস’ হওয়ার প্রবণতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিগ্রিধারী রাক্ষস না হয়ে মানুষকে হতে হবে ‘সরস’। সরস শব্দটিকে উল্টো করলে ‘সরস’ই থাকে, যা প্রকৃত মানবিকতা ও পরোপকারের প্রতীক। কেবল তখনই জগতের কল্যাণ সম্ভব।
পরিশেষে, স্বামীজির এই শৌর্য, সংহতি, বেদান্ত, উৎসাহ ও জ্ঞানের দর্শন যদি আজকের যুবসমাজ সামান্যতমও গ্রহণ করে, তবে ব্যক্তিগত জীবন ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই এক অলৌকিক পরিবর্তন বা ‘মিরাকল’ ঘটা সম্ভব।