শান-এর সঙ্গে অন্য একটি প্রজেক্টে কাজ করার সময়ই অন্বেষা দত্তগুপ্তকে( Anwesha Dattagupta) ‘জ়ারা জ়ারা সা’ গানটি ডুয়েট হিসেবে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবের ফলেই শান ও অন্বেষার কণ্ঠে তৈরি হয় এই গান। আসলে গানটি অনেক দিন ধরেই অন্বেষার নিজের সং লাইব্রেরিতে তৈরি হয়ে পড়ে ছিল। উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষাতেই ছিল সেটি। অবশেষে গানটি প্রকাশ্যে আসার পর দর্শক ও শ্রোতাদের কাছ থেকে দারুণ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গায়িকা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!অভিনেত্রী হিসেবে অন্বেষার যাত্রা শুরু হয়েছে ‘হামসাজ়’ প্রজেক্টের মাধ্যমে। সেই শুটিংয়ের ফাঁকেই সময় বের করে এই মিউজ়িক ভিডিয়োর শুটিং সম্পন্ন হয়। শুধু অভিনয় নয়, এই মিউজ়িক ভিডিয়োতে অন্বেষা একাধিক দায়িত্ব সামলেছেন। গানের লিরিসিস্ট এবং কম্পোজ়ারের ভূমিকাতেও তাঁকে দেখা গেছে। রাজস্থানের একাধিক মনোরম লোকেশনে হয়েছে এই ভিডিয়োর শুটিং, যা গানটির আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
একসঙ্গে এতগুলো ভূমিকা সামলাতে অসুবিধা হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নে অন্বেষা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্যামেরার সামনে কাজ করছেন। ফলে গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ের ক্ষেত্রেও আলাদা করে কোনও সমস্যা হয়নি। বিভিন্ন চরিত্র বা দায়িত্বে বারবার বদল আনতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কোনও অস্বস্তি বা জড়তা কাজ করেনি। তাঁর মতে, অভিনয়, গান, লেখা বা সুর—এই সব ক্রাফ্ট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা অন্য ক্ষেত্রের কাজেও সাহায্য করে।
বর্তমানে বহু প্রতিভাবান শিল্পী সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে সাফল্যের পথ খুঁজছেন। এই প্রসঙ্গে অন্বেষার মত, সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিই নানা নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে। এমন অনেক শিল্পীর কাজ সামনে আসছে, যাঁদের মূলধারার সংগীতে দেখা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নিজস্ব ফ্যানবেসও তৈরি হচ্ছে। তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এখানে কোনও ফিল্টার না থাকায় যেমন ভালো কনটেন্ট দেখা যায়, তেমনই অনেক নিম্নমানের কনটেন্টও চোখে পড়ে। শিল্পীদের উচিত বুঝে-শুনে এই মাধ্যম ব্যবহার করা। শুধু রিল বানানোর দৌড়ে আসল শিল্পচর্চা থেকে দূরে সরে গেলে চলবে না। নতুন, মৌলিক কিছু তৈরি করার জন্য মাঝে মাঝে থামাও জরুরি।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মঞ্চে শিল্পীদের হেনস্থার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্বেষা। তাঁর মতে, দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য যাঁরা মঞ্চে ওঠেন, তাঁদের সঙ্গে এমন হিংসাত্মক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আরও বড় সমস্যা হল, এই ধরনের ঘটনার পর অনেক সময় দোষীরা শাস্তি পান না। তাই শিল্পী হোন বা সাধারণ মানুষ—সবার ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকা আজ আরও বেশি প্রয়োজন।