হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে পেসমেকার (Pacemaker) একটি জীবনদায়ী যন্ত্র। বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সরোজ মণ্ডল হার্ট ব্লক এবং পেসমেকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ করেছেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!হার্ট ব্লক ও পেসমেকার কেন প্রয়োজন?
হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে যা চালানোর জন্য নির্দিষ্ট ‘ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই’ বা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের প্রয়োজন হয়। বয়সজনিত কারণে বা জন্মগত ত্রুটির ফলে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেলে হার্ট ব্লক দেখা দেয়। এর ফলে পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায় এবং মস্তিষ্কসহ বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এর প্রধান উপসর্গগুলো হলো— চরম দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট এবং হুটহাট অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা ‘ব্ল্যাক আউট’।
কাদের পেসমেকার জরুরি?
চিকিৎসকের মতে, সব ব্লকেই পেসমেকার লাগে না। তবে নিচের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য হয়ে পড়ে:
-
উচ্চ ঝুঁকি: যাদের উচ্চ রক্তচাপের সাথে জটিল হার্ট ব্লক (যেমন বাইফ্যাসিক্যুলার ব্লক) রয়েছে।
-
উপসর্গ: যাদের সারাদিন শ্বাসকষ্ট থাকে বা প্রায়ই মাথা ঘুরে পড়ে যান।
-
ব্লকের ধরন: ‘লেফট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক’ (LBB) থাকলে হার্টের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবার ‘বাইফ্যাসিক্যুলার’ ব্লকে আক্রান্ত ৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই কয়েক বছরের মধ্যে কমপ্লিট হার্ট ব্লকের সম্ভাবনা থাকে।
-
জন্মগত সমস্যা: শিশুদের জন্মগত হার্ট ব্লক থাকলে অল্প বয়সেই এটি বসাতে হয়।
পেসমেকারের ধরন ও সুস্থতা
পেসমেকার মূলত দুই ধরনের হয়— সিঙ্গল চেম্বার এবং ডুয়েল চেম্বার। বর্তমানে এর সঙ্গে ‘রেট রেসপনসিভ’ প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়, যা রোগীর শারীরিক পরিশ্রমের হার অনুযায়ী হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া আধুনিক ‘লিডলেস’ পেসমেকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে।
অস্ত্রোপচার পরবর্তী জীবন
পেসমেকার প্রতিস্থাপনের ২-৩ দিনের মধ্যেই রোগী বাড়ি ফিরতে পারেন এবং ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক কাজ শুরু করতে পারেন। ৭০-৮০ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো মৃদু হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে সঠিক পেসমেকার জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত হার্ট চেকআপ এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।