Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!
কালীপুজোর আলোচনা মানেই বারাসতের নাম সবার আগে উঠে আসে। তবে বারাসতের লরি স্ট্যান্ডের শ্রী শ্রী বড় কালী মন্দির (Barasat Boro Kali) ভক্তদের কাছে কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং অগাধ বিশ্বাস ও অলৌকিকত্বের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মা বড় কালীর দরবার থেকে কেউ কোনোদিন খালি হাতে ফেরে না।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বিদ্যাধর সৎপতি দীর্ঘ সময় ধরে দেবীর সেবা করছেন। তাঁর মতে, এখানে ভক্তদের আনাগোনা কেবল প্রথা মেনে নয়, বরং মায়ের প্রতি গভীর ভরসা থেকে। প্রতি বছর দীপান্বিতা অমাবস্যায় জাঁকজমকপূর্ণ পুজোর আয়োজন করা হয়। ভক্তরা দণ্ডি কেটে বা পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের মনস্কামনা নিবেদন করেন।
অলৌকিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মিশেল
পুরোহিতের বয়ানে উঠে এসেছে একাধিক বিস্ময়কর ঘটনা। এমনই এক কাহিনি এক বহিরাগত মহিলার, যার ছেলে দীর্ঘকাল ধরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিল। চিকিৎসায় কোনো ফল না হওয়ায় তিনি চলন্ত গাড়ি থামিয়ে বড় কালীর কাছে ছেলের সুস্থতা কামনা করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অবাক হয়ে জানান, ছেলেটি সম্পূর্ণ সুস্থ। কৃতজ্ঞতা জানাতে সেই মহিলা পুনরায় মন্দিরে ছুটে আসেন। এ ধরনের অসংখ্য ‘অসম্ভব’ ঘটনা এই মন্দিরের মহিমাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
পুজোর বিশেষত্ব ও আচার
বারাসতের এই বড় কালী মন্দিরের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্যান্য মন্দির থেকে আলাদা করে:
-
আমিষ বর্জন: সাধারণত কালীপুজোয় বলিদান বা আমিষ ভোগের প্রচলন থাকলেও, এখানে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। মেনুতে থাকে খিচুড়ি, পাঁচমিশেলি তরকারি ও চাটনি।
-
মূর্তি প্রতিষ্ঠা: আগে প্রতি বছর মাটির মূর্তি গড়ে পুজো হলেও, ২০১১ সাল থেকে স্থায়ী বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপুজো শুরু হয়েছে।
-
রক্তদান ও মানসিক: এই মন্দিরের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও কঠিন আচার হলো ‘বুক চিড়ে রক্তদান’। মানত পূরণ হলে অনেক ভক্ত পুজোর সময় নিজের বুক থেকে রক্ত দিয়ে দেবীর চরণে উৎসর্গ করেন।
অগণিত ভক্তের ভিড় আর দণ্ডি কাটার দৃশ্য প্রমাণ করে দেয় যে, বারাসতের বড় কালী মন্দিরের আধ্যাত্মিক টান কতটা গভীর। অলৌকিক গল্প আর ভক্তের বিশ্বাসের এই সংমিশ্রণেই মন্দিরটি বছরের পর বছর নিজের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।