সাম্প্রতিককালে অনেক যুগলের মধ্যেই একই বিছানায় শুয়ে পর্নোগ্রাফি (Pornography) (নীলছবি) দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই অভ্যাস অনেক সময় তাৎক্ষণিক ও তীব্র যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, যা বিদ্যুতের ঝলকের মতো সারা শরীরে শিহরণ জাগায়। এর ফলে দম্পতিরা একে অপরের সঙ্গে উদ্দাম যৌনতায় লিপ্ত হন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস স্বাভাবিক নয় এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আমেরিকার একটি সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে যে নীলছবি দেখে যৌন শিহরণ অনুভব করা মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু এই অভ্যাস যাঁদের রয়েছে, তাঁদের যৌন জীবন নাকি ততটা রোমাঞ্চকর হয় না। এর প্রধান কারণ হলো, নীলছবি দেখার ফলে শরীরে যে তীব্র উদ্দীপনা তৈরি হয়, তা খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। এই দ্রুত উদ্দীপনার কারণে একজনের চাহিদা মিটে গেলেও, অন্য সঙ্গী ততক্ষণে পর্যাপ্ত সুখ বা তৃপ্তি পান না। ফলে দু’জনের শারীরিক চাহিদা একযোগে পূর্ণ হয় না এবং যৌন জীবন সেভাবে উপভোগ করা সম্ভব হয় না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অভ্যাস বজায় থাকলে পুরুষদের মধ্যে শীঘ্রপতন বা প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন-এর মতো গুরুতর যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, নীলছবি দেখার অভ্যাসের ফলে একটি বড় সমস্যা হলো অসময়ের চাহিদা তৈরি হওয়া। অনেক সময় পর্নোগ্রাফি দেখে একজন সঙ্গী তীব্র শারীরিক চাহিদা অনুভব করলেও, অন্য সঙ্গীর সেই মুহূর্তে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা বা মানসিক প্রস্তুতি নাও থাকতে পারে। এই অবস্থায় যদি একজন জোরাজুরি করেন, তবে হয়তো দু’জনের মধ্যে শারীরিক মিলন ঘটবে, কিন্তু এই ধরনের জোর বা চাপের কারণে সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক দূরত্ব এক লহমায় অনেকটা বেড়ে যায়। এর ফলে সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ফোরপ্লের উপর জোর দিন
বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস আজই ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁরা নীলছবি নির্ভর যৌনতার পরিবর্তে ‘ফোরপ্লে’ (Foreplay) বা পূর্বরাগের উপর বেশি মনোযোগ দিতে বলছেন। ফোরপ্লে হলো যৌন মিলনের আগে সঙ্গীকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার এবং দু’জনের মধ্যে আবেগগত সংযোগ স্থাপনের একটি প্রক্রিয়া।
ফোরপ্লে-এর পদ্ধতি: ফোরপ্লের সময় সঙ্গিনীর স্তন স্পর্শ করা, যৌনাঙ্গে হাত রাখা এবং ভালোবাসার কথা বা ‘প্রেমের বুলি’ আওড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে দু’জনের শরীরকেই যৌনতার জন্য প্রস্তুত করা যায়।
সুফল: এতে উদ্দীপনা দ্রুত তৈরি না হয়ে ধীরে ধীরে বাড়ে, যা উভয়কেই দীর্ঘ সময় ধরে যৌনতাকে উপভোগ করার সুযোগ দেয়। দু’জনের শরীরী চাহিদাও একসঙ্গে মেটে। এর ফলে বিছানায় দম্পতিরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠেন এবং তাঁদের সম্পর্ক আরও রঙিন ও মজবুত হয়ে ওঠে।
অতএব, কৃত্রিম উদ্দীপনার উপর নির্ভর না করে, সঙ্গীর প্রতি মনোযোগ দিন এবং ভালোবাসার মাধ্যমে স্বাভাবিক যৌন জীবনের স্বাদ নিন।