শীতের খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ভাইরাল জ্বরের পাশাপাশি হাঁপানির (Asthma) সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। ধুলোবালি, ফুলের রেণু, পোষ্যের লোম বা ঠান্ডা পানীয়র প্রভাবে হঠাৎ শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এবং কাশির দমক শুরু হতে পারে। ইনহেলার হাঁপানি রোগীদের নিত্যসঙ্গী হলেও, বিপদের সময় তা হাতের কাছে না থাকলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ইনহেলার না থাকলে আপৎকালীন করণীয়:
-
সঠিক ভঙ্গিতে বসা: হঠাৎ টান উঠলে কখনোই শুয়ে পড়বেন না। পিঠ টানটান করে সোজা হয়ে বসুন। ঝুঁকে বসলে ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে শ্বাসকষ্ট আরও বাড়তে পারে।
-
নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস: নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিন এবং কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
-
গরম পানীয় ও বাষ্প: হালকা গরম জল বা কালো কফি (ক্যাফেইনযুক্ত) শ্বাসনালিকে কিছুটা শিথিল করতে সাহায্য করে। এছাড়া গরম জলের ভাপ বা বাষ্প নিলেও আরাম মেলে। তবে বাষ্প নেওয়ার সময় কোনো এসেনশিয়াল অয়েল মেশাবেন না, কারণ এতে অ্যালার্জি বাড়তে পারে।
-
খোলা বাতাস: আশেপাশে ধোঁয়া, ধুলো বা কড়া সুগন্ধি থাকলে দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করে খোলা বাতাসে চলে যান।
-
অনুলোম-বিলোম: ইনহেলার না থাকলে শান্ত হয়ে অনুলোম-বিলোম বা প্রাণায়াম করার চেষ্টা করুন। এটি স্নায়ুকে শান্ত রাখে এবং অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে? সব সময় ঘরোয়া উপায়ে হাঁপানির টান কমে না। যদি দেখা যায় রোগী কথা বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে আসছে, বুকে প্রচণ্ড চাপ অনুভূত হচ্ছে কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে অসাড় হয়ে পড়ছে— তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
হাঁপানি রোগীদের জন্য শীতকাল অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই নিয়মিত ওষুধের পাশাপাশি লেপ-তোশকের ধুলোবালি এড়িয়ে চলা এবং বাড়ি থেকে বেরনোর সময় ইনহেলার সাথে রাখা জীবনদায়ী অভ্যাস হতে পারে।