সম্পর্কের শুরুতে আবেগ ও মনের মিল থাকলেও ধীরে ধীরে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা অনিবার্য হয়ে ওঠে। তবে ভালোবাসার সম্পর্কে শরীর ও মনের ভারসাম্য থাকা জরুরি। আপনার সঙ্গী কি আবেগের চেয়ে কেবল শরীরকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? যদি যৌনতা (Intimacy) ছাড়া তাঁর কাছে সম্পর্কের অন্য কোনো মানে না থাকে, তবে সাবধান হওয়ার প্রয়োজন আছে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘হাইপারসেক্সুয়ালিটি’ বা অতিরিক্ত যৌন আসক্তির লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। অতি কামুক বা যৌন আসক্ত সঙ্গীকে চেনার কিছু নির্দিষ্ট উপায় ও লক্ষণ নিচে আলোচনা করা হলো:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রথমত, অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফি বা নীলছবিতে আসক্তি একটি বড় সংকেত। সঙ্গী যদি দিনরাত পর্নে বুঁদ হয়ে থাকেন এবং বাস্তব জীবনের চেয়ে কাল্পনিক যৌন দৃশ্য নিয়ে বেশি মেতে থাকেন, তবে তা স্বাভাবিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। এই আসক্তি সুস্থ যৌনজীবনকে নষ্ট করে দেয় এবং সঙ্গিনীর প্রতি মানসিক টান কমিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, স্থান-কাল-পাত্রের বিচার না করা। রোমান্টিক মুহূর্তে ঘনিষ্ঠ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আপনার সঙ্গী কি সবার সামনে বা জনসমক্ষে আপনাকে বিব্রত করে গোপনাঙ্গ স্পর্শ করা বা চুম্বনের চেষ্টা করেন? যদি তিনি পরিবেশের গুরুত্ব না দিয়ে সারাক্ষণ কেবল যৌনতায় মেতে উঠতে চান, তবে বুঝতে হবে এটি তাঁর আচরণের সমস্যা বা অতি আসক্তি।
তৃতীয়ত, বিছানায় পারফরম্যান্স নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং সারাক্ষণ নতুন নতুন বা অদ্ভুত ভঙ্গিমায় যৌনতার জন্য চাপ দেওয়া। স্বাভাবিক মিলনের চেয়ে যদি তাঁর কাছে নিত্যনতুন কৌশল বা যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাই বেশি প্রাধান্য পায়, তবে তা অতি কামুকতার লক্ষণ হতে পারে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো, যৌন আসক্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় একজনের সঙ্গে সম্পর্কে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন না। তাঁদের কাছে সম্পর্কের মানসিক গভীরতার চেয়ে শারীরিক আকর্ষণ বড় হয়ে দাঁড়ায়, ফলে যে কারো প্রতি তাঁরা সহজেই আকৃষ্ট হতে পারেন। এমন আচরণ কেবল সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমায় না, বরং বিশ্বাসভঙ্গের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
যদি আপনার সঙ্গীর মধ্যে এই লক্ষণগুলো প্রকটভাবে ধরা পড়ে, তবে মনে রাখবেন এটি কোনো সাধারণ অভ্যাস নয়, বরং এক ধরণের মানসিক জটিলতা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঝগড়াঝাটি বা সন্দেহ না করে দ্রুত কোনো বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক থেরাপি এবং সঠিক নির্দেশনাই পারে আপনার সঙ্গীকে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক যৌনজীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং আপনাদের সম্পর্ককে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙন থেকে রক্ষা করতে।