শীতের নরম রোদে পিঠে ব্যাগ নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর আনন্দই আলাদা। ভারতের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এতটাই যে একেকটি অঞ্চল বিদেশের কোনো না কোনো সুন্দর দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। কাশ্মীরকে যদি ভারতের ‘সুইজারল্যান্ড’ বলা হয়, তবে হিমাচল আর অরুণাচলের দুটি বিশেষ জায়গাকে অনায়াসেই বলা যায় ‘একটুকরো নরওয়ে’ (Norway)। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ে যেমন তার তুষারশুভ্র প্রকৃতি আর শান্ত পরিবেশের জন্য বিখ্যাত, ভারতের এই দুটি প্রান্তও সৌন্দর্যের নিরিখে তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নারকান্ডা: হিমাচলের স্কি স্বর্গ ভারতের প্রথম ‘নরওয়ে’ বলা যেতে পারে হিমাচল প্রদেশের নারকান্ডা-কে। শিমলা থেকে হিন্দুস্তান-তিব্বত রোড বরাবর ২৭০৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই উপত্যকাটি পর্যটকদের কাছে এক রোমাঞ্চকর গন্তব্য। শীতকালে নারকান্ডা যখন সাদা বরফের চাদরে ঢাকা পড়ে, তখন তার রূপ ঠিক নরওয়ের পার্বত্য অঞ্চলের মতো দেখায়। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো তুষারশুভ্র ঢালে ‘স্কি’ করার সুযোগ। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এমনকি সাধারণ পর্যটকরাও এখানে বরফের ওপর স্কি করার অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় জমান। শিমলা ভ্রমণের তালিকায় একদিন নারকান্ডার জন্য বরাদ্দ রাখলে আপনি বিদেশের আমেজ দেশেই খুঁজে পাবেন।
দিবাং ভ্যালি: অরুণাচলের আদিম প্রকৃতি দ্বিতীয় জায়গাটি হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশের দিবাং ভ্যালি। আদিম এবং অকৃত্রিম প্রকৃতির খোঁজে যাঁরা ঘুরতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি স্বর্গরাজ্য। এই উপত্যকার সবুজ পাহাড় আর মেঘের আনাগোনা নরওয়ের নির্জন গ্রামগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। দিবাং ভ্যালির বিশেষত্ব হলো এখানকার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। মিশমি উপত্যকার প্রাচীনত্বের ছোঁয়া, বিরল প্রজাতির ‘মিশমি টাকিন’ বাইসন এবং অগণিত ওষধি গাছ এই অঞ্চলকে অনন্য করে তুলেছে। এখানে নারকান্ডার মতো স্কি করার সুযোগ না থাকলেও, প্রকৃতির শুদ্ধতা আর শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ আপনাকে এক মায়াবী জগতের অনুভূতি দেবে।
নরওয়ের মতো ছয় মাস দিন বা রাত কিংবা সুমেরুপ্রভা (অরোরা বোরিয়ালিস) ভারতে দেখা না গেলেও, প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা আর রোমাঞ্চের দিক থেকে নারকান্ডা এবং দিবাং ভ্যালি পর্যটকদের নিরাশ করবে না। তাই এবারের শীতে বিদেশ ভ্রমণের স্বাদ দেশেই পেতে চাইলে আপনার গন্তব্য হোক এই দুই ঠিকানা।