যাঁরা খাবারের মধ্যে একটু বেশি ঝাল এবং মশলার কড়া স্বাদ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য দক্ষিণ ভারতীয় বা দক্ষিণী রান্না (South Indian cuisine) সবসময়ই প্রথম পছন্দ। ঝালে কান-মাথা ভোঁ ভোঁ করলেও এই স্বাদের মায়া কাটানো কঠিন। ভাত থেকে শুরু করে চাটনি বা মাছের পদ—দক্ষিণী ঘরানায় ঝাল-মশলাদার ৩টি জনপ্রিয় রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. কুসকা রাইস (Kuska Rice)
এটি মূলত এক ধরণের মশলাদার ঝরঝরে পোলাও। প্রথমে কড়াইতে ঘি গরম করে তাতে এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি ও গোলমরিচ ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি ও স্বাদ অনুযায়ী ৫-৬টি বা তার বেশি চেরা কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভাজুন। আদা-রসুন বাটা, নুন, হলুদ, জিরে ও ধনে গুঁড়োর সাথে লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে মশলা কষান। টমেটো নরম হয়ে তেল ছাড়লে পুদিনা ও ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে দিন। আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা চাল ও পরিমাণমতো জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। তৈরি হয়ে যাবে দারুণ সুগন্ধী ও ঝাল কুসকা রাইস।
২. কারা চাটনি (Kara Chutney)
দক্ষিণ ভারতে ইডলি বা দোসার সাথে এই লাল রঙের ঝাল চাটনিটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি বানাতে প্রথমে শুকনো লঙ্কা গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন। লঙ্কা নরম হলে মিক্সারে লঙ্কার সাথে রসুন কোয়া, পেঁয়াজ, সামান্য টমেটো কুচি এবং নুন দিয়ে একটি মিহি পেস্ট তৈরি করুন। সবশেষে কড়াইতে সর্ষে ও কারিপাতা ফোড়ন দিয়ে চাটনির ওপর ছড়িয়ে দিন। এই চাটনি ভাত বা রুটির সাথেও দারুণ লাগে।
৩. রয়ালা ইগুরু (Royyala Eguru)
চিংড়ি মাছের এই মাখোমাখো ঝাল পদটি আমিষভোজীদের জন্য সেরা। প্রথমে নুন-হলুদ মাখানো চিংড়ি মাছ সামান্য জল দিয়ে এমনভাবে সেদ্ধ করুন যাতে জল শুকিয়ে যায়। এবার কড়াইতে সাদা তেল ও ঘি গরম করে কাঁচালঙ্কা, কারিপাতা ও পেঁয়াজ কুচি ভাজুন। এতে আদা-রসুন বাটা, লঙ্কাগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো ও নুন দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলা কষানো হলে সেদ্ধ চিংড়িগুলো দিয়ে কম আঁচে ৫ মিনিট রান্না করুন। নামানোর আগে গরমমশলা ছড়িয়ে দিন।
এই তিনটি পদই ঝাল ও মশলার মেলবন্ধনে তৈরি, যা সাধারণ ভোজকেও রাজকীয় করে তোলে। বিশেষ করে শীতের দুপুরে এই ধরণের ঝাল খাবার শরীর ও মনে আলাদা তৃপ্তি দেয়।