Himantaviswa Sharma
প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চ থেকেই উজানি অসমে কার্যত নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা Himantaviswa Sharma। পরিকল্পিত ভাবেই গুয়াহাটি নয়, এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে মুখ্যমন্ত্রী পতাকা উত্তোলনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন উজানির ডিব্রুগড়কে। উজানিতে আহোম ভোট, চা শ্রমিকদের ভোট প্রচুর। লোকসভায় উজানি অসমে ওই দুই গোষ্ঠীর ভোটই পেয়েছিল কংগ্রেস। চা শ্রমিকদের উন্নয়ন, রাজ্যের বিকাশের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা Himantaviswa Sharma।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!হিমন্ত চা শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান, সরকারি চাকরিতে চা জনগোষ্ঠীর জন্য ৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা ও অন্যান্য উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, চা অসমের পরিচয় কিন্তু তাঁদের বিকাশের জন্য গত ৭৫ বছরে কোনও সরকারই নেয়নি। অসম থেকে একসঙ্গে ৫ জন, ভাস্কর ও শিল্প নির্দেশক তথা নবনির্মিত বটদ্ৰবা সাংস্কৃতিক প্রকল্পের রূপকার নুরুদ্দিন আহমেদ, প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থ, রেশম চাষের ক্ষেত্রে যোগেশ দেউরি, কার্বি লোকসঙ্গীত শিল্পী পখিলা লেখথেপি ও সত্রীত নৃত্যশিল্পী হরিচরণ শইকিয়াকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানান হিমন্ত। সাম্প্রতিক বিভাজনের রাজনীতি, ‘মিঁয়া’ মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণার ধারা বজায় রেখে এবং কংগ্রেস ও রাইজর দলের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ককে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতিসত্ত্বা ও পরিচয় রক্ষা করতে অসমবাসীকে ‘মোগল’দের কাছে আত্মসমর্পণ না করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
পূর্ববঙ্গীয় মুসলমানদের আগ্রাসনে অসমের জনকাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। ওই গোষ্ঠীর জনসংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। একসময় ৬৩ লক্ষ ৫৮ হাজার বিঘা জমি এই ‘অচেনা’ ব্যক্তিদের দখলে ছিল এবং ইতিমধ্যেই দেড় লক্ষেরও বেশি বিঘা জমি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি জমিও ধাপে ধাপে উদ্ধার করা হবে।” উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৫ বছরে অসমের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে, জিডিপি ১৩% থেকে বেড়ে ১৫%-এ পৌঁছেছে, দাভোসের বিশ্ব অর্থনীতি সমাবেশ থেকে রাজ্যে দেড় লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।
বিজেপি আমলে গন্ডার শিকার প্রায় বন্ধ হওয়ার নজির তুলে ধরে ও অতীতে গন্ডার হত্যার জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে হিমন্ত প্রশ্ন ছোড়েন, “প্রতিদিন গন্ডার হত্যা হওয়া অসম চাই না সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বমুখী যাত্রায় শামিল হওয়া উন্নত অসম চাই?” পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরের মাসের অসম সফরের সময় মরাণে জাতীয় সড়কে নির্মিত ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং হাইওয়েতে তাঁর বিমান অবতরণ করবে। ৩০ জানুয়ারি ডিব্রুগড় বিধানসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হিমন্তর অভিযোগ, মহাত্মা গান্ধীর চেষ্টাতেই সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব ভীমরাও অম্বেডকরকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জওহরলাল নেহরু ইচ্ছাকৃত ভাবে অম্বেডকরকে দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে, বিভিন্ন ভাবে সংবিধানের আত্মাকে আঘাত করে আসছে।