পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে মানুষের মতোই নাজেহাল অবস্থা আমাদের চারপেয়ে বন্ধুদের। এই প্রবল ঠান্ডায় পোষ্যকে (Pet) সুস্থ রাখতে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। অনেকেই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এই শীতেও পোষ্যকে নিয়মিত স্নান করান, যা ডেকে আনতে পারে ভয়ংকর বিপদ। পশু বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরদের কোনো ঋতুতেই প্রতিদিন স্নান করানো উচিত নয়। এতে তাদের ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা নষ্ট হয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শীতকালীন স্নান ও পশমের যত্ন: শীতের সময় খুব প্রয়োজন হলে সপ্তাহে একদিনের বেশি স্নান করাবেন না। তবে স্নান করানোর আগে আবহাওয়া দেখে নেওয়া জরুরি। আকাশ মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলে সেদিন স্নান করানো এড়িয়ে চলুন। রোদ ঝলমলে দিনে সকাল সকাল স্নান করানোই সবচেয়ে নিরাপদ। স্নানের পর পোষ্যের গায়ে জল থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ভেজা পশম থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া বা ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে। তোয়ালে দিয়ে ভালো করে গা মুছিয়ে দিন। ড্রায়ার পশম ও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তাই প্রাকৃতিক রোদে শুকিয়ে নেওয়াই শ্রেয়। স্নানের বদলে প্রতিদিন ভালো করে পশম আঁচড়ে দিলে ময়লাও দূর হয় এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে।
বাইরে বেরনো ও পোশাকের সতর্কতা: প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়ার সময় অবশ্যই পোষ্যকে গরম কাপড় পরিয়ে রাখুন। বড় পশমযুক্ত কুকুরের ক্ষেত্রে খুব ভারী পোশাকের প্রয়োজন না হলেও হালকা সোয়েটার জরুরি। বাইরে থেকে ফেরার পর অবশ্যই তাদের পায়ের তলা বা ‘থাম্বপ্যাড’ ভালো করে পরিষ্কার করে দিন। রাতে ঘুমানোর সময়ও তারা যেন গরম ও আরামদায়ক জায়গায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা: ঠান্ডার কারণে অনেক সময় পোষ্যরা জল কম খায়, তাই পর্যাপ্ত জল পান করানো নিশ্চিত করতে হবে। শীতকালে সর্দি-কাশি, চোখ দিয়ে জল পড়া বা জ্বর হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সামান্য অবহেলা পরবর্তীতে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
প্রিয় পোষ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শীতের এই কয়েক মাস পরিচ্ছন্নতার চেয়েও তাদের উষ্ণ রাখা এবং সঠিক পুষ্টির দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।