হিন্দুধর্মে দেবী কালিকা (Kali) মহাশক্তির আধার এবং অশুভ বিনাশের প্রতীক। অনেকেই ভক্তিভরে বাড়িতে মা কালীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করেন, তবে শাস্ত্র মতে গৃহস্থালিতে দেবী প্রতিমা রাখার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ভক্তি ও বিশ্বাসের পাশাপাশি সঠিক নিয়ম মেনে মূর্তি স্থাপন না করলে সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধির বদলে বড় ধরনের অনর্থ বা অমঙ্গল ঘটার আশঙ্কা থাকে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শাস্ত্রমতে বাড়িতে কালীর কোন রূপ অশুভ?
দেবীর উগ্র এবং সংহারক রূপ বাড়িতে রাখা শাস্ত্রসম্মত নয়। বিশেষ করে যে মূর্তিতে মায়ের হাতে খড়্গ, ছিন্ন মস্তক, নরমুণ্ডর পাত্রে রক্ত এবং লকলকে রক্তবর্ণ জিহ্বা দেখা যায়—সেই ভয়ংকর রূপ মন্দিরে পুজোর জন্য উপযুক্ত হলেও শোবার ঘর বা সাধারণ ঠাকুরঘরে রাখা অনুচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর এই উগ্র রূপ বাড়িতে রাখলে সদস্যদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ, মানসিক অশান্তি এবং উগ্রতা বৃদ্ধি পায়। তাই ঘরোয়া উপাসনার জন্য মায়ের শান্ত, সৌম্য এবং মাতৃসুলভ বরাভয় রূপের ছবি বা মূর্তি বেছে নেওয়াই শ্রেয়।
মূর্তি স্থাপন ও আকার সংক্রান্ত নিয়ম:
১. প্রতিমার উচ্চতা: মন্দিরের মতো বিশাল আকৃতির কালীমূর্তি বাড়িতে রাখা বাস্তুশাস্ত্রে নিষিদ্ধ। গৃহস্থের জন্য দৈর্ঘ্যে ছোট বা মাঝারি আকারের মূর্তি বাঞ্ছনীয়। খুব বড় প্রতিমা ঘরে রাখলে বাস্তুদোষ তৈরি হতে পারে, যার ফলে সংসারে কলহ, আর্থিক অনটন এবং মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
২. অখণ্ড মূর্তি: ভাঙা বা সামান্য খুঁতযুক্ত (খণ্ডিত) দেবীমূর্তি বাড়িতে রাখা অত্যন্ত অশুভ। এ ধরনের মূর্তি নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। যদি কোনো কারণে মূর্তি ভেঙে যায়, তবে তা দ্রুত কোনো পবিত্র জলাশয়ে বা গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া উচিত। নতুবা পরিবারে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও বিপদের সম্ভাবনা থাকে।
৩. স্থাপনের স্থান: ঠাকুরঘর বা পুজোর নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া শোবার ঘর, রান্নাঘর বা অন্য কোথাও কালীর মূর্তি স্থাপন করা শাস্ত্রীয়ভাবে নিষেধ।
পরিশেষে বলা যায়, দেবী কালিকার আরাধনা যেমন শক্তি ও সাহস জোগায়, তেমনই তাঁর সংস্থাপন বিধিতে সামান্য ভুল জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে মায়ের শান্ত রূপের আরাধনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।