হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবাদিদেব মহাদেব ও তাঁর পরম অনুগত সহচর নন্দীর (Nandi) সম্পর্ক এক অবিচ্ছেদ্য মহিমায় ভাস্বর। শিবপুরাণ থেকে শুরু করে প্রচলিত লোকবিশ্বাস— সর্বত্রই মহেশ্বর ও নন্দী একে অপরের পরিপূরক। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই শিব মন্দির থাকুক না কেন, সেখানে শিবলিঙ্গের ঠিক সামনেই হাঁটু মুড়ে বসা অবস্থায় দেখা যায় নন্দীদেবকে। এই বিশেষ অবস্থান এবং প্রথার নেপথ্যে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ও শাস্ত্রীয় তাৎপর্য।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নন্দীর অবস্থান ও শিব-অভিমুখী হওয়ার কারণ নন্দী কেবল মহাদেবের বাহন নন, তিনি কৈলাসের প্রধান দ্বাররক্ষী এবং মহাদেবের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। শাস্ত্র মতে, নন্দী মহাদেবের কাছ থেকে এই বর লাভ করেছিলেন যে, তিনি সর্বদা শিবের সান্নিধ্যে থাকবেন। তাই যেখানেই শিবের মূর্তি বা লিঙ্গ স্থাপিত হয়, সেখানে নন্দীর অবস্থান বাধ্যতামূলক। নন্দী কেন সর্বদা মহাদেবের দিকে মুখ করে বসে থাকেন, তার কারণ হলো নন্দীর একাগ্রতা ও অতন্দ্র প্রহরা। দেবাদিদেব অধিকাংশ সময় গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকেন। মহাদেবের এই তপোবনে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং তাঁর ধ্যানে যাতে কেউ ব্যাঘাত না ঘটায়, সেজন্য নন্দী সর্বদা সতর্ক দৃষ্টিতে তাঁর প্রভুর দিকে তাকিয়ে থাকেন। নন্দী এখানে পরম ভক্তি ও ধ্যানের প্রতীক, যা ভক্তকে শিক্ষা দেয় কীভাবে লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয়।
কানে ইচ্ছা প্রকাশের রহস্য ও নিয়ম হিন্দু শাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়, নন্দী হলেন মহাদেবের ‘কান’ বা চিরন্তন শ্রোতা। যেহেতু শিব ধ্যানমগ্ন থাকেন, তাই সাধারণ ভক্তের পক্ষে সরাসরি তাঁর ধ্যানে ব্যাঘাত ঘটানো সম্ভব নয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, নন্দীর কাছে কোনো প্রার্থনা জানালে তিনি উপযুক্ত সময়ে তা মহাদেবের গোচরে আনেন।
এই প্রথা পালনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। শিবলিঙ্গের পুজোর পর নন্দীর সামনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে তাঁর পুজো সম্পন্ন করতে হয়। এরপর অন্য কারো সাথে কথা না বলে, নিজের ঠোঁট হাত দিয়ে ঢেকে অত্যন্ত গোপনে নন্দীর কানে মনের বাসনা জানাতে হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, নন্দী কখনো কারো কথা বিফলে যেতে দেন না। নন্দীর কানে বলা প্রার্থনা সরাসরি কৈলাসে মহাদেবের চরণে পৌঁছে যায় এবং ভক্তের মনস্কামনা পূর্ণ হয়। মূলত এই কারণেই শিব মন্দিরে নন্দী ও মহাদেবের পুজো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে গণ্য করা হয়।