হিন্দুধর্মে প্রতিটি দেবদেবীর বাহনের পেছনেই লুকিয়ে থাকে গভীর আধ্যাত্মিক ও পৌরাণিক তাৎপর্য। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে মা দুর্গার ‘সিংহবাহিনী’ রূপটি আমাদের প্রধান আলোচনার বিষয়। কেন অপরাজেয় শক্তির প্রতীক দেবী দুর্গা (Devi Durga) তাঁর বাহন হিসেবে সিংহকে বেছে নিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন পুরাণে একাধিক মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!পৌরাণিক প্রেক্ষাপট ও দেবীর তপস্যা: একটি জনপ্রিয় কাহিনী অনুসারে, মহাদেবকে স্বামী হিসেবে পেতে দেবী দীর্ঘকাল কঠোর তপস্যা করেছিলেন। দীর্ঘ তপস্যার প্রভাবে দেবীর গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে মহাদেব কৌতুকবশত তাঁকে ‘কালী’ বলে সম্বোধন করেন। এতে অভিমানী দেবী নিজের গৌরবর্ণ ফিরে পেতে পুনরায় তপস্যায় মগ্ন হন। এই সময় এক ক্ষুধার্ত সিংহ দেবীকে আহার হিসেবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু দেবীর তপোবল ও তেজে মুগ্ধ হয়ে সিংহটি হিংসা ত্যাগ করে চুপচাপ তাঁর অপেক্ষায় বসে থাকে। দেবীর তপস্যা সমাপ্ত হলে তিনি ওই সিংহের ধৈর্য ও নিষ্ঠায় প্রীত হন এবং তাকে নিজের বাহন হিসেবে গ্রহণ করেন।
শ্রী শ্রী চণ্ডী ও হিমালয়ের দান: অন্য এক মত অনুসারে, দেবী যখন মহিষাসুর বধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখন সকল দেবতা তাঁদের তেজ ও অস্ত্র দিয়ে তাঁকে সুসজ্জিত করেন। সেই সময় গিরিরাজ হিমালয় দেবী দুর্গাকে তাঁর শক্তির উপযুক্ত বাহন হিসেবে একটি শক্তিশালী সিংহ উপহার দেন। সিংহ হলো সাহস, বিক্রম এবং রাজকীয়তার প্রতীক, যা দেবীর অশুভ বিনাশকারী সত্তার সঙ্গে মানানসই।
শার্দুল ও অসুরের প্রতীকী তাৎপর্য: সিংহ ছাড়াও কোনো কোনো আঞ্চলিক সংস্কৃতি বা তন্ত্রশাস্ত্রে দেবীকে ‘শার্দুলবাহিনী’ বা বাঘের ওপর আসীন রূপেও বর্ণনা করা হয়। যদিও বাঘ ও সিংহের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য রয়েছে, তবে উভয়েই অপরাজেয় শক্তির প্রতীক। আবার কিছু তান্ত্রিক লোককথায় অসুরকেও দেবীর পদতলে বাহন হিসেবে কল্পনা করা হয়। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো—দেবী এতটাই শক্তিশালী যে তিনি পরম শত্রুকেও বশীভূত করে নিজের আয়ত্তে রাখতে সক্ষম।
মা দুর্গার বাহন কেবল একটি পশু নয়; এটি মানুষের অভ্যন্তরীণ ক্রোধ ও অহংকারকে দমন করে রাজকীয় গাম্ভীর্যের সঙ্গে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক।