সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬Bengali News: (বাংলা সংবাদ) Latest News in Bangla
aajbanglanews.com

নস্ট্যালজিয়ায় ভর করে ফিরছে শীতের হারিয়ে যাওয়া বাঙালি রান্না

শীত (Winter) এলেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে খাওয়াদাওয়ার ছবি। এক সময় এই মরশুম মানেই ছিল ঘরে ঘরে পিঠেপুলি, পায়েস আর নানা ঐতিহ্যবাহী রান্নার ধুম। গৃহিণীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি সেই সব পদের গন্ধে ম-ম করত গোটা বাড়ি, আর পরিবারের সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত কখন কী রান্না হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রায় যেমন বদল এসেছে, তেমনই বদলে গিয়েছে বাঙালির রান্নাঘরের ছবিও। আজ ব্যস্ততার চাপে অনেক ঐতিহ্যবাহী শীতের পদই যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এক সময় পৌষ সংক্রান্তি এলেই বাড়ি বাড়ি চোষি কেটে পায়েস রান্নার রেওয়াজ ছিল। আট থেকে আশি—সকলেই মন ভরে খেতেন সেই পায়েস। কিন্তু এই পদ তৈরি করতে সময় ও পরিশ্রম দুটোই লাগে। তাই এখন চোষির পায়েস প্রায় বাড়িতে আর হয় না বললেই চলে। একই ভাবে, লঙ্কা ও ধনেপাতা বাটা দিয়ে রান্না করা মুরগির ঝালও আজকাল খুব কম দেখা যায়। অতিরিক্ত ঝাল খাওয়ার অভ্যাস কমে যাওয়ায় তার জায়গা নিয়েছে নানা ধরনের কাবাব ও সহজ রান্না।

পাটিসাপটা পিঠে এখনও পাওয়া যায় ঠিকই, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মিষ্টির দোকান থেকেই কেনা হয়। বাড়িতে চালের গুঁড়ো দিয়ে পাটিসাপটা বানানোর ঝক্কি অনেকেই আর নিতে চান না। উপরন্তু দোকানের পাটিসাপটাতেও এখন ময়দা ও সুজির ব্যবহার বেশি, ফলে সেই পুরনো স্বাদ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে। দুধ, নারকেল আর ঘি দিয়ে তৈরি গোকুল পিঠেও আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

শীতের মরশুমে এক সময় রাঙা আলু দিয়ে তৈরি হত নানা মিষ্টি, যেমন রসবড়া। গ্রামবাংলায় এই ধরনের মিষ্টি ছিল অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে এই পদগুলিও খুব কম বাড়িতেই তৈরি হয়। একই অবস্থা আরিষা পিঠে ও কাঁকারা পিঠের। আগে গ্রামাঞ্চলে এই পিঠেগুলি বেশ জনপ্রিয় হলেও আজ অনেকেই নামই শোনেননি।

এক সময় পেঁপের ভিতর পুর ভরে দোলমা রান্না হত প্রায় প্রতিটি বাড়িতে। সহজপাচ্য ও সুস্বাদু এই পদটি সকলের প্রিয় ছিল। এখন তার জায়গা দখল করেছে পটলের দোলমা। অতীতে বেশিরভাগ মহিলা ছিলেন গৃহবধূ, ফলে রান্নাঘরে সময় দেওয়ার সুযোগ ছিল বেশি। এখন অফিস ও সংসার সামলাতে গিয়ে চটজলদি রান্নাই ভরসা। তার ফলেই শীতের সেই সব নস্ট্যালজিক বাঙালি পদ আজ অস্তিত্ব সংকটে।

You cannot copy content of this page