নতুন বছরে ওজন কমানোর এক বৈপ্লবিক পদ্ধতি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ডুকান ডায়েট’ (Dukan Diet)। ফরাসি চিকিৎসক পিয়েরে ডুকানের নামানুসারে তৈরি এই ডায়েট মূলত লো-কার্বোহাইড্রেট ও হাই-প্রোটিন নির্ভর। ভাত, রুটি বা চিনির মতো শর্করা জাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে মাছ, মাংস, ডিম এবং শাকসবজির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে এই খাদ্যাভ্যাস।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ওজন কমার কৌশল: ডুকান ডায়েট ওজন কমাতে দুটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করে। প্রথমত, কার্বোহাইড্রেট না পাওয়ায় শরীর প্রয়োজনীয় জ্বালানির জন্য গ্লুকোজের অভাব বোধ করে এবং জমা চর্বি গলিয়ে শক্তি তৈরি করতে শুরু করে— একে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কিটোসিস’ বলা হয়। দ্বিতীয়ত, প্রোটিন হজম করতে শরীরের বেশি ক্যালোরি খরচ হয় এবং এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
খাদ্যতালিকা ও নিয়ম: এই ডায়েটে থালার অর্ধেক অংশ শাকসবজি এবং বাকি অর্ধেক চর্বিহীন প্রোটিন (যেমন চিকেন ব্রেস্ট, মাছ বা ডিম) দিয়ে ভরতে হয়। সামান্য পরিমাণ ঘি, মাখন বা অলিভ অয়েল ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও অতিরিক্ত ফ্যাট বা মিষ্টি জাতীয় সস-ড্রেসিং এড়িয়ে চলা জরুরি। লিন মিট বা চর্বিহীন মাংসের বদলে রেড মিট খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞের মত: ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) সহ অনেক পুষ্টিবিদই মনে করেন, ডুকান ডায়েট দ্রুত ওজন কমানোর জন্য স্বল্প মেয়াদে দারুণ কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর কিছু ঝুঁকি রয়েছে। কার্বোহাইড্রেটের চরম অভাবে শরীর দুর্বল হওয়া, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি অতিরিক্ত প্রোটিনের চাপে কিডনির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই ডুকান ডায়েট শুরু করার কয়েক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে ডালিয়া, কিনোয়া, ব্রাউন রাইস বা লাল চালের ভাতের মতো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত। একইসঙ্গে ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণে ফল, দুধ, দই ও বাদাম খাওয়া প্রয়োজন। সবথেকে নিরাপদ উপায় হলো, নিজের শরীরের ধরণ বুঝে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে এই ডায়েট শুরু করা, যাতে স্বাস্থ্যহানি না ঘটিয়েই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।