ব্যস্ত জীবনে ঝটপট সাজের জন্য কাজলই অনেকের প্রধান ভরসা। অফিস থেকে শুরু করে আড্ডা—চোখে একটু কাজল (Kajal) ছোঁয়ালেই সাজ যেন পূর্ণতা পায়। তবে এই প্রিয় অভ্যাসের আড়ালেই লুকিয়ে আছে চোখের বড় বিপদ। চক্ষু চিকিৎসকদের মতে, একটানা ১০-১২ ঘণ্টা চোখে কাজল পরে থাকা কিংবা কাজল না তুলেই ঘুমিয়ে পড়া চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। প্রতিদিন কাজল ব্যবহারের ফলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় এবং তা থেকে বাঁচার উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!কাজল ব্যবহারের সম্ভাব্য সমস্যাসমূহ
-
সংক্রমণ ও অ্যালার্জি: কাজলে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান থেকে চোখের আশেপাশে র্যাশ বা অ্যালার্জি হতে পারে। কাজল পেনসিল নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
-
চোখের শুষ্কতা ও অস্বস্তি: দীর্ঘক্ষণ কাজল পরে থাকলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে ওঠে। এতে চোখে জ্বালাপোড়া, লালভাব এবং অস্বস্তি দেখা দেয়।
-
ফুসকুড়ি ও যন্ত্রণা: চোখের ভেতরে বা আশেপাশে ছোট ছোট সাদা ফুসকুড়ি হতে পারে, যা থেকে তীব্র যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়।
-
চোখের পাতার ক্ষতি: প্রতিদিনের কাজলে চোখের পাতার গোড়া দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে চোখের মণি বা পাতার লোম ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
-
দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব: দীর্ঘক্ষণ কাজল ব্যবহারের ফলে অনেকেরই আলো সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায় এবং চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়।
-
সৌন্দর্যহানি: কাজল ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে চোখের নিচে কালচে ছোপ বা ডার্ক সার্কেল স্থায়ী হতে পারে।
সতর্কতা ও পরিচর্যা
কাজল পরার আনন্দ যেমন আছে, তেমনই চোখের সুরক্ষায় বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। সারাদিন কাজলে চোখ সাজিয়ে রাখলেও দিনের শেষে তা যত্ন সহকারে পরিষ্কার করা আবশ্যিক।
১. মেকআপ রিমুভাল: রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ভালো মানের মেকআপ রিমুভার বা নারকেল তেল দিয়ে চোখের কাজ পরিষ্কার করুন।
২. জলের ঝাপটা: কাজল তোলার পর পরিষ্কার ঠান্ডা জলে চোখের ঝাপটা দিন। এতে চোখের ক্লান্তি দূর হয় এবং ক্ষতিকর কণা ধুয়ে যায়।
৩. চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি কাজল পরার পর চোখ লাল হওয়া বা জল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
চোখ শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ। তাই সামান্য অবহেলা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। কাজল পরুন, তবে নিয়ম মেনে চোখের যত্ন নিতে ভুলবেন না।