পোশাককে পোকামাকড়মুক্ত রাখতে এবং আলমারির গুমোট ভাব কাটাতে ন্যাপথালিন ও কর্পূরের (Naphthalene and Karpur) ব্যবহার আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তবে এই তীব্র সুগন্ধি উপাদান দুটি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই দুই জিনিসের সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য ‘নীরব ঘাতক’ হয়ে উঠতে পারে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ন্যাপথালিনের ক্ষতিকর প্রভাব: ন্যাপথালিন বল সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসে পরিণত হয়ে বাতাসে মিশে যায়। হায়দরাবাদের পালমোনোলজিস্ট ড. কিরণ কুমার রেড্ডির মতে, এই গ্যাসের গন্ধে মাথা ঘোরা, বমি ভাব এবং চোখের জ্বালা হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং বিশেষ করে হাঁপানি বা অ্যাস্থমা রোগীদের শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি আরও বেশি; অসাবধানতাবশত এটি মুখে দিলে বা দীর্ঘক্ষণ এর গন্ধে থাকলে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কর্পূরের প্রভাব: কর্পূর প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসায় ন্যাপথালিনের চেয়ে কিছুটা কম ক্ষতিকর মনে করা হলেও এটি পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বন্ধ ঘরে বা আলমারিতে অতিরিক্ত কর্পূর রাখলে মাথাব্যথা ও অস্বস্তি হতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কার্তিক আন্নামালাই চন্দ্রশেখরন সতর্ক করেছেন যে, শিশুদের অপরিণত মস্তিষ্ক ও লিভার কর্পূরের প্রভাব সহ্য করতে পারে না। এটি শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেওয়া বিচিত্র নয়।
সতর্কতা ও করণীয়: সমস্যা মূলত এর অতিরিক্ত ব্যবহার এবং আবদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকা নিয়ে। যদি ব্যবহার করতেই হয়, তবে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
-
বায়ু চলাচল: আলমারি বা ঘর নিয়মিত খোলা রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ক্ষতিকর গ্যাস বেরিয়ে যায়।
-
পরিমিত ব্যবহার: প্রয়োজনের অতিরিক্ত ন্যাপথালিন বা কর্পূর ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
-
সুরক্ষিত দূরত্ব: শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে এগুলো রাখুন।
-
খাদ্যদ্রব্য থেকে দূরে: খাবার বা নিত্যব্যবহার্য বাসনপত্রের কাছে কখনোই এগুলো রাখা উচিত নয়।
সুস্থ থাকতে কৃত্রিম গন্ধের বদলে প্রাকৃতিক উপায়ে (যেমন নিমের শুকনো পাতা) পোকামাকড় তাড়ানোর অভ্যাস করা বেশি নিরাপদ।