ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে শীতের আমেজে বেরিয়ে পড়তে পারেন প্রতিবেশী তিন রাজ্যের পাহাড়, অরণ্য আর ঝর্নার টানে। কলকাতা (Kolkata) থেকে স্বল্প সময়ে ঘুরে আসার মতো তিনটি রোমাঞ্চকর ঠিকানার হদিস নিচে দেওয়া হলো:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. সারান্ডা অরণ্য (ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্ত): সাতশো পাহাড়ের দেশ সারান্ডা তার আদিম অরণ্য আর ঝিকিমিকি ঝর্নার জন্য বিখ্যাত। বড়বিল বা মনোহরপুর স্টেশনে নেমে এই পাহাড়ি সাম্রাজ্যে প্রবেশ করা যায়। এখানকার মূল আকর্ষণ মেঘাতুবুরু ও কিরিবুরু ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখা মায়াবী সূর্যাস্ত। এছাড়া রয়েছে ঝিকিরা ও ঘাঘীরথী জলপ্রপাত, কারো নদী এবং থলকোবাদের ঘন জঙ্গল। হাতে দুই রাত তিন দিন সময় থাকলেই ঘুরে নেওয়া যায় জটেশ্বর শিবমন্দির ও বৈতরণী নদীর উৎসস্থল।
-
যাতায়াত ও থাকা: হাওড়া থেকে বড়বিল জনশতাব্দী বা সমলেশ্বরী এক্সপ্রেসে যাওয়া যায়। থাকার জন্য বড়বিলের হোটেল বা থলকোবাদের বন বাংলো উপযুক্ত।
২. সাসারাম ও রোহতাস (বিহার): ইতিহাস আর প্রকৃতির মেলবন্ধন দেখতে চলুন বিহারের সাসারামে। এখানে কৃত্রিম হ্রদের মাঝে অবস্থিত শের শাহ সুরির সুবিশাল সমাধি স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। পাহাড় প্রেমীদের জন্য রয়েছে পনওয়াড়া পাহাড়ের মুন্ডেশ্বরী মন্দির এবং মনঝর কুণ্ড ও ধুঁয়াকুণ্ড জলপ্রপাত। এখান থেকে ৩৫ কিমি দূরে দুর্গাবতী নদীর ওপর পাহাড় ঘেরা করমচাট জলাধারটি যেন কোনো সিনেমার শুটিং স্পট। ঝর্নার পথে ঝুলন্ত সেতু পেরিয়ে তুতলাভবানীর মন্দির দর্শন এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
-
যাতায়াত ও থাকা: হাওড়া থেকে দুন, পূর্বা বা নেতাজি এক্সপ্রেসে চড়ে সহজেই সাসারাম পৌঁছানো যায়। এখানে থাকার জন্য প্রচুর ভালো মানের হোটেল রয়েছে।
৩. রাবণধারা (ওড়িশা): ওড়িশার কালাহান্ডি জেলায় অবস্থিত রাবণধারা জলপ্রপাতটি এখন অফবিট পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। অরণ্যের গভীরে বড় রাবণধারা ও সানা রাবণধারা নামে দুটি সুন্দর ঝর্না রয়েছে। ট্রেকিং প্রিয়রা চাইলে ‘উপর রাবণধারা’তেও পৌঁছাতে পারেন। এছাড়া কাছাকাছি কারলাপাত অভয়ারণ্য ও ডোখরিচঞ্চরা জলপ্রপাত ঘুরে নেওয়া যায়। ওড়িশা ইকো ট্যুরিজমের নেচার ক্যাম্পে বসে পাহাড় আর অরণ্যের নিস্তব্ধতা উপভোগ করা এক পরম শান্তি।
-
যাতায়াত ও থাকা: সমলেশ্বরী এক্সপ্রেসে নরলা রোড নেমে বা ভুবনেশ্বর হয়ে ভবানীপাটনা পৌঁছে রাবণধারা যাওয়া যায়। থাকার জন্য ওড়িশা সরকারের ইকো কটেজ সেরা বিকল্প।
প্রতিটি গন্তব্যই আপনাকে শহরের কোলাহল থেকে দূরে এক স্নিগ্ধ ও সতেজ অনুভূতি দেবে।