যেমন কোনও রান্নায় নুনের সামান্য হেরফেরেই স্বাদ পুরো বদলে যেতে পারে, ঠিক তেমনই সম্পর্কের ভিত মজবুত রাখতে যৌনজীবনের (Intimacy) ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। একসঙ্গে থাকা দু’জন মানুষের সন্তুষ্টি অনেক সময়েই সম্পর্কের সুস্থতায় নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। তবে বহু বছরের দাম্পত্যে অন্তরঙ্গতায় একঘেয়েমি আসা নতুন কিছু নয়। সেই কারণেই অনেকেই সম্পর্কে নতুনত্ব আনতে বিভিন্ন রকম যৌন কৌশল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ বেছে নেন। কিন্তু সঙ্গীর এই ধারাবাহিক ‘এক্সপেরিমেন্ট’-এ যদি আপনি অস্বস্তিতে পড়েন বা নিজেকে ক্লান্ত মনে করেন, তা হলে স্পষ্টভাবে কথা বলা জরুরি। কীভাবে সেই কথোপকথনটি শুরু করবেন, দেখে নেওয়া যাক।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রথমত, সঙ্গীর নতুন নতুন কৌশল চেষ্টা করার ফলে যদি আপনার শরীরে ব্যথা, অস্বস্তি বা মানসিক চাপ তৈরি হয়, তা স্পষ্ট ভাষায় তাঁকে জানান। বলুন যে reel-এর উত্তেজনা সবসময় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। সোশ্যাল মিডিয়া বা পর্নের আদলে তৈরি কল্পনা বাস্তব সম্পর্কের সঙ্গে মেলে না—এই বিষয়টি তাঁকে বোঝানো জরুরি।
দ্বিতীয়ত, যৌনতার মূল উদ্দেশ্য দু’জনেরই আনন্দ পাওয়া। যদি নানা ধরনের নতুন ভঙ্গি বা কৌশল আপনাকে আরাম না দিয়ে উল্টো যন্ত্রণা দেয়, তা হলে তা খোলামেলাভাবে সঙ্গীকে জানান। বলুন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আপনার জন্য সুখকর নয় বরং চাপ তৈরি করছে।
তৃতীয়ত, সম্পর্কের অন্তরঙ্গ মুহূর্তে কোনও কঠোর নিয়ম থাকতে পারে না—এ কথাটিও বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। প্রতিদিন নতুন কিছু চেষ্টা করা বাধ্যতামূলক নয়, বরং যেদিন যেমন মন চায়, সেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়াই বেশি স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক। এতে সম্পর্কে স্বস্তি, বিশ্বাস এবং রঙ—সবই বাড়ে।
চতুর্থত, যৌন সম্পর্ক শুধুমাত্র শারীরিক বিষয় নয়—মনের অবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গীর চিন্তা-ভাবনা বা প্রত্যাশা যদি অতিরিক্ত প্রভাব ফেলছে, তবে সেখানে মানসিক সমর্থন বা দৃষ্টিভঙ্গির বদল দরকার হতে পারে। প্রয়োজনে কোনও কাউন্সেলর বা থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়াও যুক্তিযুক্ত। এতে সম্পর্ক আরও সুস্থ ও স্বচ্ছ হয়ে উঠতে পারে।
সঠিক সময়ে, শান্তভাবে, স্পষ্ট ভাষায় কথা বলাই এই সমস্যার সবচেয়ে ভালো সমাধান।