Red-light district
নিষিদ্ধপল্লিতে Red-light district বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর তথ্য সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে । এতদিন যা ছিল গুজব বা গুঞ্জন, এবার সেটাই প্রমাণিত । পুলিশের হাতে টাটকা প্রমাণ কুলটির নিষিদ্ধপল্লি । স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি । কিন্তু এরই পাশাপাশি অন্য আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে । প্রশ্ন উঠছে, যাদের নিয়মিত নজর রাখার কথা, অর্থাৎ যৌনপল্লির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে শুরু করে শাসকদলের নেতা কিংবা পুলিশ, তারা কী করে ? বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মহিলার জাল নথি ধরা না-পড়লে কি জানা যেত, ভেতরের এই ঘটনা ? তবে কি গোড়ায় গলদ ? নজরেই ঢিলেমি । এই ঘটনার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন উঠে এল । দু’দিন আগেই সালানপুরের দেন্দুয়া এলাকার বাসিন্দা ছোটন সেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সালানপুর থানার পুলিশ ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এক মহিলা যিনি যৌনপল্লিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁর এদেশের নাগরিকত্বের সমস্ত নথি ছোটন ভুয়ো পদ্ধতিতে বানিয়ে দিয়েছিলেন । ওই মহিলা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতেই ভুয়ো নথির বিষয়টি সামনে আসে । মহিলা চম্পট দিয়েছেন । ধরা পড়েছেন ছোটন সেন । পুলিশ তদন্ত করে দেখছে শুধু ওই মহিলা, নাকি এর সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশি মহিলার নথিপত্র তৈরি করেছিলেন এই ছোটন । রাজ্যে এসআইআর শুরু হতেই যখন হাজার হাজার নাম বাদ পড়তে শুরু করে, তখনই বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল প্রচুর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এ রাজ্যে ঢুকে বসেছিল । যারা ভুয়ো ভোটার ছিল, তারা নথিপত্রের ভয়ে এখন পালাচ্ছে । রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গে তোলপাড় শুরু হয় আসানসোলের কুলটির লছিপুর ও চপকা যৌনপল্লিতেও ।
পরিসংখ্যান বলছে, কুলটির নিষিদ্ধপল্লি এলাকার চারটি বুথের খসড়া তালিকায় দেখা যায় প্রায় 40 শতাংশ নামে গরমিল । ফর্ম জমা না-দিয়েই উধাও অনেকে । বুথ নম্বর – 113, 114, 115 ও 116-তে মোট ভোটার ছিল 3 হাজার 627। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সরাসরি নাম বাদ হয়েছে 742 জনের । যার মধ্যে মৃত ভোটার 139 জন, অন্যত্র চলে গেছেন বা শিফটেড 69 জন । অন্যদিকে এই চারটি বুথে 534 জন ভোটারের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি । অনেকে এন্যুমারেশন ফর্ম তুলেও আর জমা দেয়নি । 2002 এর তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং করা যায়নি, এমন ভোটারের সংখ্যাও 684 । অনেকেরই বাবার নাম মিলছে না । মিলছে না সঠিক তথ্য । হিয়ারিংয়ে তাদের ডাকা হলেও বহু মহিলা যাননি । এই ঘটনার পরেই বিরোধী দলের নেতারা হইচই করতে শুরু করেন ।
তাঁরা বাংলাদেশ তত্ত্বকেই প্রতিষ্ঠা করবার চেষ্টা করে । যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নিষিদ্ধপল্লি এলাকায় কোনও বাংলাদেশি নেই । কিন্তু গত পরশুর ঘটনা সামনে আসতেই আবারও হইচই । প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এভাবেই বাংলাদেশিদের ভুয়ো ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানিয়ে তাদেরকে এদেশের নাগরিক করে দেওয়া হচ্ছে ! বিজেপির কুলটি অঞ্চলের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার অভিজিৎ আচার্য চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন । তিনি দাবি করেন, “তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলররা 10 হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারী মহিলাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ অন্যান্য নথিপত্র বানিয়ে দেন ।” কয়েক বছর আগে কুলটিতে এমন একটি ঘটনা ধরাও পড়েছিল । সেই সময় নাম উঠে এসেছিল প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মীর হাসিমের ।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ আচার্যর দাবি, “এই ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দেখানো চলবে না । এর থেকে প্রমাণ হচ্ছে যে, বাংলাদেশিরা এ রাজ্যে আসছে । এ রাজ্য কার্যত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে । রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে দুর্বার মহিলা সমিতি ৷ তারা যৌনপল্লিতে নতুন কোনও মহিলা এলে তাঁর বয়সের সার্টিফিকেট দেখার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করে ৷ পাশাপাশি তার কাউন্সেলিং করা হয় এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় ৷ তারপরে যৌনপল্লিতে যৌন ব্যবসা করার জন্য তা ছাড়পত্র মেলে ৷ এটাই যদি নিয়ম হয়, তবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা কী করে যৌনপল্লির মধ্যে ঢুকে পড়ছে ! তবে কি নজরদারিতেই অভাব রয়েছে ? এমন প্রশ্নই উঠে আসছে ৷ কুলটির যৌনপল্লির দুর্বার মহিলা সমিতির মেন্টর রবি ঘোষ জানাচ্ছেন, “নিয়মমাফিক আমরা সমস্ত নথিপত্র পরীক্ষা করার পরেই মেয়েদের যৌনপল্লিতে স্থান দিই ৷ কিন্তু আমরা যেখানে অপারগ সেটা হচ্ছে নথিপত্র আসল না নকল তা দেখার জন্য কোনও প্রশিক্ষণ আমাদের নেই কিংবা কোনও পোর্টালও আমাদের কাছে নেই ৷ যার ফলে কোনও মহিলা এসে আমাদের নথিপত্র দেখালে সেই নথিপত্র আসল না নকল তো আমরা বুঝব কী করে !
পাশাপাশি কোনও মহিলা যদি শহর থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে এখানে আসেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কারও বোঝার ক্ষমতা নেই যে তিনি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী কি না ৷ কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে তাও তাঁর অজানা বলে জানান রবি ঘোষ ৷ যৌনপল্লিতে কোন মহিলা বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী তা বোঝার জন্য সত্যিই কোনও সঠিক অর্থে পদ্ধতি নেই । স্থানীয় তৃণমূল নেতা পূর্ণেন্দু রায় ওরফে বাচ্চু জানালেন, “সবাই অভিযোগ তুলতে পারেন । কিন্তু আসল জায়গাটা কেউ ভাবছেন না । এই যে ‘পাড়া’গুলি থাকে, সেখানে মেয়েরা ক্রমাগত আসা-যাওয়া করে । আজ যে মেয়ে আসানসোলে, কাল তিনি চলে যান বিহারের পাটনায়, পরশু গুজরাতে বা উত্তরপ্রদেশে । এভাবে তারা সব সময় আসা-যাওয়া করে । ফলে কোন বাড়িতে কোন মেয়ে আসছে, কোন মেয়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার এরকম মেয়েদের মাঝে তা খুঁজে পাওয়া যায় না । আর যৌনপল্লির ভেতরে একটা অন্য পরিবেশ থাকে । ফলে সে ক্ষেত্রেও সবার উপর ওইভাবে নজরদারি চালানো যায় না । কারণ মহিলারা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে চান ।” পূর্ণেন্দু রায়ের দাবি, “যদি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এ রাজ্যে ঢোকে, তার প্রধান দায় বিএসএফের । কোনও না কোনও জায়গায় ফাঁকফোকর গলেই তো তারা এই রাজ্যে আসছে । সীমান্তে সেই জায়গাগুলোকে বন্ধ করার চেষ্টা কেন হচ্ছে না ? অর্থাৎ সেখানেও দুর্নীতি রয়েছে । আর এই দুর্নীতি একেবারেই কেন্দ্রের দুর্নীতি । ফলে এই সমস্যা থেকে সমাধান তখনই পাওয়া যাবে যখন সীমান্ত একেবারে পুরোপুরি সিল করে দেওয়া যাবে । নইলে অভাব থেকে মেয়েরা আসবেই । তাদের নথিপত্র তৈরি হবে । তারা কে বাংলাদেশি আর কে এদেশি সেটা বোঝার উপায় থাকবে কী করে ?”