শীতের হিমেল হাওয়ায় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। অনেকের ক্ষেত্রে সাধারণ কোল্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার মাখার কিছুক্ষণ পরেই ত্বক পুনরায় খসখসে ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ত্বকের বিশেষ যত্নে (Winter Skincare) কেবল প্রসাধনী যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতি এবং ঘরোয়া উপাদানের সঠিক ব্যবহার। ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিংয়ের পাশাপাশি এই সময় ‘অয়েল’ বা ‘ক্রিম বেসড’ প্রসাধনী ব্যবহার করা জরুরি। তবে বাজারচলতি রাসায়নিকের বদলে ঘরোয়া কিছু ফেসপ্যাক ত্বকের গভীর থেকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শীতের রুক্ষতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর দুটি ঘরোয়া প্যাক নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নারকেল দুধ ও মধুর ফেস প্যাক: অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য এই প্যাকটি আশীর্বাদের মতো। নারকেলের দুধে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে ভেতর থেকে নরম রাখে এবং মধু আর্দ্রতা ধরে রাখতে একটি সুরক্ষাকবচ বা বর্ম হিসেবে কাজ করে। এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের টানভাব দূর হয়।
২. অ্যাভোকাডো ও মধুর মাস্ক: অ্যাভোকাডো কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতেও অনন্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বককে পুষ্টি জোগায়।
-
তৈরির পদ্ধতি: ২ টেবিল চামচ অ্যাভোকাডোর মাখন সদৃশ শাঁস এবং ১ টেবিল চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মুখ পরিষ্কার করে এই মিশ্রণটি ক্রিমের মতো মেখে হালকা হাতে মাসাজ করুন। ত্বক প্যাকটি শুষে নিলে কিছুক্ষণ পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ত্বকের আর্দ্রতা ও জেল্লা বজায় রাখতে মাসে অন্তত ৩-৪ বার এই ধরনের ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যেকোনো প্যাক মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই হাতের ত্বকে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া জরুরি, যাতে কোনো রকম অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয়। নিয়মিত এই প্রাকৃতিক যত্ন নিলে শীতের দিনেও আপনার ত্বক থাকবে কোমল, সজীব এবং উজ্জ্বল।