সারাক্ষণ যৌনচিন্তা (Sex Addiction) মাথায় ঘুরলে অনেকেই মনে করেন এটি কোনো জটিল মানসিক রোগ। কিন্তু যৌন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টিকে সরাসরি রোগ বলা ভুল; বরং এটি একটি তীব্র শারীরিক ও মানসিক তাড়না যা সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যখন এই আসক্তি দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায় বা মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে, তখন সচেতন হওয়া জরুরি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!অতিরিক্ত যৌন আসক্তি নিয়ন্ত্রণের উপায়:
বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা মোকাবিলায় জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন:
-
শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম: নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শরীরের হরমোন নিঃসরণ ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। এতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং অতিরিক্ত যৌন আসক্তি অনেকাংশে হ্রাস পায়। শরীরচর্চা মস্তিষ্ককে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করে।
-
সঙ্গীর সম্মতির প্রতি শ্রদ্ধা: যৌন আকাঙ্ক্ষা তীব্র হলেও মনে রাখা জরুরি যে আপনার সঙ্গী সবসময় প্রস্তুত নাও থাকতে পারেন। জোর না করে সেই মুহূর্তে কেবল হালকা আদর বা সান্নিধ্যের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখা যেতে পারে। এটি সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
-
পর্নোগ্রাফি আসক্তি ত্যাগ: সারাক্ষণ যৌনচিন্তা আসার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে পর্ন দেখার অভ্যাস। এই অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। পর্ন দেখার পরিবর্তে সৃজনশীল কাজে মন দিন; যেমন—বই পড়া, পছন্দের সিনেমা বা সিরিজ দেখা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া।
-
জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা: সঠিক সময়ে ঘুমানো এবং সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সচল রাখে। মদ্যপান বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য এই আসক্তিকে আরও উসকে দিতে পারে, তাই মদ্যপান এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
যদি দেখা যায় এই চিন্তা আপনার কর্মক্ষেত্র, সামাজিক সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত জীবনে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তবে একজন অভিজ্ঞ সেক্সোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, এটি কোনো লজ্জা নয়, বরং সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে জীবনকে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সুস্থ মস্তিষ্ক ও সুশৃঙ্খল জীবনই হলো যৌন স্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তির চাবিকাঠি।