বিখ্যাত হলিউড ছবি ‘পারফিউম: আ স্টোরি অফ আ মার্ডারার’-এর কথা আমাদের অনেকেরই মনে আছে, যেখানে ঘ্রাণশক্তিই ছিল গল্পের মূল চালিকাশক্তি। সম্প্রতি মার্কিন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—বাস্তব জীবনেও মানুষের প্রেম এবং যৌন আকর্ষণ অনেকাংশেই নির্ভর করে শরীরের গন্ধের (Smell) ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঙ্গী নির্বাচন থেকে শুরু করে বিছানায় চূড়ান্ত তৃপ্তি লাভ—সবক্ষেত্রেই ঘ্রাণেন্দ্রিয় এক গোপন ভূমিকা পালন করে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!সমীক্ষার মূল নির্যাস: গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ তৈরির ক্ষেত্রে শরীরের গন্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় এক হাজার মহিলার তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, অনেক সময় মহিলারা অজান্তেই এমন পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন, যাঁর শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ তাঁদের অবচেতন মনকে প্রভাবিত করে। মজার বিষয় হলো, অনেক নারী পুরুষের গায়ের ঘামের গন্ধ কিংবা সিগারেটের হালকা গন্ধকেও বেশ পছন্দ করেন, যা তাঁদের যৌন উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, পুরুষদের পছন্দ কিছুটা ভিন্ন। সমীক্ষা অনুযায়ী, পুরুষরা সাধারণত নারীদের শরীরের ঘামের গন্ধ খুব একটা পছন্দ করেন না। বরং নারীর গায়ের হালকা মিষ্টি প্রাকৃতিক সুবাসই তাঁদের বেশি আকৃষ্ট করে। এই গন্ধের টানই সম্পর্কের রসায়নকে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের কিছু জরুরি পরামর্শ:
১. পছন্দ জেনে নিন: প্রথম ডেটে বা প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে তিনি ঠিক কেমন ধরনের সুগন্ধি পছন্দ করেন, তা জানার চেষ্টা করুন। সঠিক সুগন্ধির ব্যবহার সঙ্গীর মন জয় করার কাজটিকে অনেক সহজ করে দেয়।
২. স্বাভাবিক গন্ধে ভরসা: যৌন মিলনের সময় তীব্র কৃত্রিম পারফিউম এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঙ্গমের মুহূর্তে শরীরের স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক গন্ধই সঙ্গীকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ ও উত্তেজিত করে। এটি সম্পর্কের মধ্যে এক ধরণের আদিম ও নিবিড় সংযোগ তৈরি করে।
৩. তীব্রতা এড়িয়ে চলুন: সবসময় খুব হালকা ও স্নিগ্ধ পারফিউম ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এমন কোনো কড়া সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না যা সঙ্গীর মাথা ব্যথা বা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সুগন্ধ কেবল আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে না, এটি প্রেমের গভীরতা পরিমাপের এক অদৃশ্য মাপকাঠিও বটে। তাই সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখতে গায়ের সুগন্ধের দিকে নজর দিন।