ভারত ও ভুটানের (Bhutan) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পর্যটন মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। লক্ষ্য পর্যটন শিল্পের বিকাশ, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য শক্তিশালী করা এবং কলকাতার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ভুটানের নবনির্মিত গেলফু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ড্রুক এয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক উড়ান কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। পারো-র পর গেলফু হলো ভুটানের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রকল্প ও উদ্বোধন: ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে এই বিশেষ বিমান পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এটি ভুটানের উচ্চাভিলাষী ‘গেলফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। সারপাং জেলায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি দক্ষিণ ভুটানে সরাসরি পৌঁছানোর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল।
স্থাপত্য ও বৈশিষ্ট্য: ৬৮ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিমানবন্দরটি নিজেই একটি দর্শনীয় স্থান। ভুটানি ঐতিহ্য এবং আধুনিক স্থাপত্যের এক অনবদ্য মিশেলে তৈরি করা হয়েছে এর ডায়াগ্রিড কাঠামো। ড্রাগনের মোটিফ এবং উন্নতমানের কাঠ ব্যবহার করে এখানে ভুটানের সমৃদ্ধ হস্তশিল্পকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিমানবন্দরটির বিশেষত্ব হলো এখানে যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখা হয়েছে। বর্তমানে এটি দৈনিক ১২৩টি উড়ান পরিচালনা করতে সক্ষম এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বছরে ১.৩ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
পর্যটন ও বাণিজ্যে প্রভাব: এতদিন ভারতীয় পর্যটকদের মূলত সড়কপথে অথবা পারো বিমানবন্দরে নেমে ভুটান ভ্রমণ করতে হতো। এখন কলকাতা থেকে সরাসরি গেলফু পৌঁছানোর সুযোগ আসায় ভ্রমণপিপাসুদের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই দক্ষিণ ভুটান ভ্রমণের পথও মসৃণ হবে। ড্রুক এয়ারের এই উড়ানে একমুখী টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৫,৫০০ টাকা থেকে ৩৫,০০০ টাকার মধ্যে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ভুটান ভ্রমণে ভারতীয়দের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এই আকাশপথ চালু হওয়ায় দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য আরও শক্তিশালী হবে। সেই সঙ্গে কলকাতার মতো মহানগরীর সাথে ভুটানের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।