সারাদিনের কর্মব্যস্ততা ও ক্লান্তি অনেক সময় দাম্পত্য জীবনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। ডিনার সেরে ঘুমানোর তাড়া থাকায় সঙ্গীর কামনার আগুন অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘুমই হতে পারে আপনার যৌনজীবনকে আরও মধুময় করার শ্রেষ্ঠ উপায়। ঘুমের সাথে যৌনতার (Intimacy) গভীর সম্পর্ক নিয়ে উঠে এসেছে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ঘুম ও যৌনতার পারস্পরিক যোগসূত্র: বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম হলো শরীরের ‘চার্জার’। শরীর যত বিশ্রাম পাবে, যৌনতার উদ্দীপনা তত বাড়বে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে নারীদের যৌন ইচ্ছা কমে যায় এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ শিথিলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যারা অনিদ্রায় ভোগেন, তাদের যৌনজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
কেন এক ঘুম দিয়ে সঙ্গম করা জরুরি? ১. ক্লান্তি দূর ও সতেজতা: সারাদিনের অফিসের ধকল নিয়ে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে অন্তত এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়া ভালো। রাত ১টা থেকে ২টোর সময়টি মিলনের জন্য বেছে নিতে পারেন। এতে শরীর রিল্যাক্স থাকে এবং ক্লান্তি কাটিয়ে মন চনমনে হয়ে ওঠে। ২. হরমোনের প্রভাব: পুরুষদের ক্ষেত্রে রাত বাড়ার সাথে সাথে শরীরে ‘টেস্টোস্টেরন’ হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এক চিলতে ঘুমের পর মিলন করলে স্ট্যামিনা বৃদ্ধি পায় এবং যৌনক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। ৩. মানসিক প্রশান্তি: যৌন মিলনের পর শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ ও ‘প্রোল্যাক্টিন’ নামক দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনে সুখের অনুভূতি তৈরি করে। এর ফলে মিলনের পরবর্তী ঘুম হয় অত্যন্ত গভীর ও আরামদায়ক।
বিশেষজ্ঞের সারকথা: যৌন তৃপ্তি ও উন্নত মানের ঘুম—একটি অন্যটির পরিপূরক। ভালো ঘুমের পর সঙ্গম যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি তৃপ্তিদায়ক সঙ্গমের পর ঘুমও হয় চমৎকার। তাই যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে আগে শরীরকে বিশ্রাম দিন, তারপর সঙ্গীর সাথে নিবিড় প্রেমে মত্ত হন। এতে শরীর ও মন দুই-ই রিচার্জ হবে এবং সম্পর্ক হবে আরও সুদৃঢ়।
সুস্থ যৌনজীবনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক বিশ্রামের মধ্যে। তাই সঙ্গীকে খুশি করতে এবং নিজের সক্ষমতা ধরে রাখতে ঘুমের গুরুত্বকে অবহেলা করবেন না।