শীতের হিমেল দিনে রান্নাঘরে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটাতে কারই বা ভালো লাগে! অথচ এই সময়েই মন চায় এমন কিছু খেতে যা শরীরকে উষ্ণ রাখবে এবং স্বাদেও হবে অতুলনীয়। শীতকালীন সর্দি, কাশি কিংবা ঠান্ডা লাগার সমস্যায় পথ্য হিসেবে ‘কালোজিরের ভর্তা’র (Black cumin paste) জুড়ি নেই। নামমাত্র উপকরণে এবং খুব কম সময়েই মিক্সির সাহায্যে আপনি এই জিভে জল আনা পদটি তৈরি করে নিতে পারেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রয়োজনীয় উপকরণ: এই ভর্তা তৈরির জন্য আপনার লাগবে ৫০ গ্রাম কালোজিরে, ২ টেবিল চামচ খাঁটি সর্ষের তেল, ৪-৫টি শুকনো লঙ্কা (ঝাল অনুযায়ী), আধ কাপ পেঁয়াজ কুচি, ৬-৭ কোয়া রসুন এবং স্বাদমতো নুন।
প্রস্তুত প্রণালী: ১. কালোজিরে ভাজা: প্রথমে শুকনো কড়াইতে ঢিমে আঁচে কালোজিরেগুলো হালকা ভেজে নিন। কালোজিরে ভাজার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন; কারণ এটি বেশি ভাজা হয়ে গেলে তেতো হয়ে যায়। যখন কালোজিরে থেকে সুগন্ধ বেরোবে এবং চিরচির করে শব্দ হবে, তখনই বুঝতে হবে এটি ভাজা হয়েছে। ভাজা হয়ে গেলে দ্রুত অন্য পাত্রে নামিয়ে রাখুন, গরম কড়াইতে ফেলে রাখবেন না।
২. মসলা ভাজা: কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে শুকনো লঙ্কাগুলো ভেজে তুলে নিন। এরপর ওই তেলেই পেঁয়াজ কুচি ও রসুনের কোয়াগুলো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। পেঁয়াজ ও রসুন হালকা বাদামি রঙ ধরলে নামিয়ে নিন।
৩. বাটা ও মিশ্রণ: প্রথমে ভাজা কালোজিরে মিক্সিতে বা শিলনোড়ায় আপনার পছন্দমতো (মিহি বা দানাযুক্ত) গুঁড়ো করে একটি পাত্রে রাখুন। এরপর মিক্সিতে ভাজা লঙ্কা, পেঁয়াজ, রসুন, নুন এবং সামান্য কাঁচা সর্ষের তেল দিয়ে ভালো করে বেটে নিন। মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে তাতে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা কালোজিরে মিশিয়ে আরও একবার মিক্সিতে ঘুরিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন মিশ্রণটি যেন কিছুটা আঠালো হয়; খুব শুকনো মনে হলে আরও সামান্য সর্ষের তেল যোগ করতে পারেন।
৪. পরিবেশন: মিক্সি থেকে নামিয়ে হাতের চাপে গোল মণ্ড তৈরি করে নিন। উপরে সাজানোর জন্য কাঁচালঙ্কা বা ধনেপাতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল দারুণ স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু কালোজিরের ভর্তা।
গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে এই ভর্তা কেবল আপনার রসনাতৃপ্তিই করবে না, বরং শীতের মরশুমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করবে।