শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় এবং শুরু হয় নানাবিধ চর্মরোগ। এই সময়ে ত্বকের সঠিক যত্ন ও সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন চর্মরোগ (Skin diseases) বিশেষজ্ঞ ডা. গৌরব রায়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শীতকালে ত্বক কেন শুষ্ক হয়? শীতের শুষ্ক বাতাস এবং ঘরের ভেতরে রুম হিটারের ব্যবহার শরীর থেকে জল শুষে নেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্রান্সএপিডার্মাল ওয়াটার লস’ বলা হয়। এছাড়া ত্বকের বাইরের স্তরে সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হয়, যা দিয়ে আর্দ্রতা বেরিয়ে যায়। এই ঋতুতে ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিড যেমন সেরামাইডস ও ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপাদন কমে যাওয়ায় ত্বক প্রাণহীন দেখায়। দীর্ঘ সময় গরম জলে স্নান করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা ‘সিবাম’ নষ্ট হয়ে শুষ্কতা আরও বাড়ে।
চর্মরোগের ঝুঁকি: অতিরিক্ত শুষ্কতা থেকে অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস এবং একজিমার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের এবং হাইপোথাইরয়েডিজম বা কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। ভিটামিন এ, ডি এবং জিঙ্কের অভাবেও ত্বকের ক্ষত সারাতে সমস্যা হয়।
বিশেষজ্ঞের জরুরি পরামর্শ: ১. স্নানের নিয়ম: দীর্ঘ সময় ধরে গরম জলে স্নান করবেন না। স্নানের পর শরীর হালকা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সাবানের বদলে মাইল্ড ক্লিনজার বা সিন্ডেট সাবান বেছে নিন। ২. সঠিক ময়েশ্চারাইজার: গ্লিসারিন, পেট্রোলেটাম, ইউরিয়া এবং সেরামাইডসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ত্বকের জল ধরে রাখতে কার্যকর। তবে গ্লিসারিনের সাথে লেবুর রস মেশাবেন না, এতে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। ৩. প্রসাধন ও পোশাক: অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা রেটিনয়েড সিরাম এড়িয়ে চলুন। বাইরে বেরোলে শরীর ঢেকে রাখুন যাতে ত্বকের জলীয় অংশ উড়ে না যায়। ৪. ঘরোয়া টোটকা: নারকেল তেল বা আর্গান অয়েল উপকারী হলেও ব্রণের সমস্যা থাকলে নারকেল তেল এড়িয়ে চলাই ভালো। ফাটা ত্বকে টক দই বা মধু ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে একজিমা থাকলে তা করবেন না। ৫. খাদ্যাভ্যাস: পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।
রোদে বসে সরষের তেল মাখা বা নিজে থেকে ওষুধ কিনে লাগানো বন্ধ করতে হবে। শীতকালেও সানস্ক্রিন এবং এসপিএফ সমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করা অপরিহার্য। সমস্যা গুরুতর হলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে সময় নষ্ট না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।