দাম্পত্য সম্পর্ক ও যৌনজীবন (Intimacy) পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অনেকেই মনে করেন, শারীরিক ঘনিষ্ঠতার তৃপ্তিই নাকি বৈবাহিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিয়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু দম্পতির যৌনজীবনে নেমে আসে একঘেয়েমি। একই বাড়িতে থেকেও বিছানায় আগের মতো উষ্ণতা থাকে না, ফলে অনেকে সম্পর্ক নিয়ে মানসিক চাপেও ভোগেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!সম্প্রতি এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য। ওই সমীক্ষায় মোটামুটি পাঁচশোরও বেশি মানুষের উপর গবেষণা চালানো হয়। রিপোর্ট বলছে, বিবাহিত জীবনে ঘনিষ্ঠতার উষ্ণতা বজায় রাখতে সপ্তাহে অন্তত এক দিন যৌন মিলন বেশ সুফল দেয়। বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব নাকি বেশি।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫০০ মহিলার মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত সপ্তাহে অন্তত একবার পরিপূর্ণ শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় মেতে ওঠেন এবং এতে তাঁরা যথেষ্ট সন্তুষ্ট। আবার আরেকদল রয়েছেন, যাঁদের মাসে মাত্র একবার ঘনিষ্ঠতা হয়। সমীক্ষা বলছে, এই ৬৬ শতাংশ মহিলা–ও তাঁদের যৌনজীবন নিয়ে মোটের উপর সন্তুষ্ট। তবে যাঁদের ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের ব্যবধান আরও দীর্ঘ, তাঁরা অনেকেই নিজেদের যৌনজীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। এই অসন্তুষ্টি থেকেই অনেক সময় বিরক্তি, মনমরা ভাব বা মানসিক চাপে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ঘন ঘন মিলন মানেই যে বেশি তৃপ্তি— এমন ধারণা ভুল। তুলনামূলকভাবে পুরুষরা দ্রুত যৌনতায় আগ্রহী হলেও ফোরপ্লে নিয়ে তাঁদের উদ্দীপনা কম থাকে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। বেশিরভাগ নারী মুখে প্রকাশ না করলেও ফোরপ্লে তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ পূর্বাভাস না থাকলে তাঁরা পরবর্তী যৌনমুহূর্তে পূর্ণ তৃপ্তি পান না।
সমীক্ষায় আরও এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে—মহিলাদের যৌনতৃপ্ত করার বিষয়টি বয়সভেদে বদলায়। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সি নারীরা তুলনায় সহজে তৃপ্ত হন, কিন্তু বয়স ৪৫ পেরোলে তাঁদের যৌনতৃপ্তি অর্জন করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
সুতরাং, শুধু একই বিছানায় রাত কাটালেই দাম্পত্য সুখ সমৃদ্ধ হয় না। মাঝে মাঝে একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে, সময় নিয়ে ঘনিষ্ঠতায় ডুবে গেলে সম্পর্ক অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও সতেজ থাকে।