বাঙালির চিরন্তন আলুভাজাপ্রীতি সর্বজনবিদিত। ডাল-ভাতের সঙ্গে গরম আলুভাজা যেমন এক তৃপ্তিদায়ক আহার, তেমনই বিকেলের আড্ডায় বা হালকা খিদে মেটাতে এখনকার প্রজন্মের প্রথম পছন্দ ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ (French fries)। সাধারণত আমরা রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতে গিয়ে এটি খাই অথবা বাজার থেকে প্রিজারভেটিভ দেওয়া প্যাকেটজাত ফ্রাই কিনে আনি। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা চাইলে খুব সহজেই বাড়িতে ক্যাফের মতো মচমচে এবং সুস্বাদু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বানিয়ে নিতে পারেন। নিচে এর ধাপে ধাপে তৈরির কৌশল আলোচনা করা হলো:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!স্টার্চ মুক্ত করা ও আলুর প্রস্তুতি: ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির প্রথম শর্ত হলো আলু থেকে অতিরিক্ত স্টার্চ বের করে দেওয়া। এর জন্য প্রথমে লম্বাটে ফালি করে কাটা আলুগুলোকে ঠান্ডা জলে অন্তত ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সেই জল বদলে ফেলে আবার নতুন জলে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে আলুর আঠালো ভাব বা স্টার্চ পুরোপুরি চলে যাবে, যা ফ্রাই মচমচে হতে সাহায্য করবে।
ভাপানো ও ঠান্ডা করা: জল থেকে তুলে আলুগুলোকে অল্প সময়ের জন্য ভাপিয়ে নিতে হবে। অর্ধেক সেদ্ধ হওয়ার মতো ভাপিয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে আলুগুলো ফ্রিজে রেখে দিন প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টার জন্য। এই প্রক্রিয়ায় আলুর বাইরের অংশ শক্ত হয়, যা ভাজার সময় অতিরিক্ত তেল শোষণ রোধ করে এবং ভেতরে নরম ভাব বজায় রাখে।
ডাবল ফ্রাই পদ্ধতি: দোকানের মতো মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পেতে হলে একবার নয়, বরং দু’বার ভাজতে হবে। ফ্রিজ থেকে বের করা আলুর টুকরোগুলোকে প্রথমে মাঝারি আঁচে একবার ভেজে তুলে নিন। এবার ভাজা আলুগুলো পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়ে গেলে ফের কড়াইয়ের আঁচ বাড়িয়ে বেশি আঁচে দ্বিতীয়বার ভাজুন। এই ‘ডাবল ফ্রাই’ পদ্ধতির কারণেই ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের বাইরের স্তরটি অত্যন্ত খাস্তা ও সোনালী রঙের হয়।
পরিবেশন: ভাজা হয়ে গেলে ওপর থেকে সামান্য নুন, লঙ্কা গুঁড়ো বা পেরি-পেরি মশলা ছড়িয়ে দিন। এরপর মেয়োনিজ, টমেটো কেচাপ কিংবা আপনার পছন্দের কোনো ডিপ দিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম ঘরোয়া ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। প্রিজারভেটিভমুক্ত এই পদটি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনই স্বাদে একদম নামী রেস্তোরাঁর মতোই অতুলনীয়।