শীতের মরসুমে সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি কিংবা বাতের ব্যথার মতো সমস্যা ঘরে ঘরে লেগেই থাকে। এই ধরনের সংক্রামক ব্যাধি থেকে বাঁচতে ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ঘরোয়া উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে শ্বেতকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্যায়ামের (Yoga) ফলে বিপাক হার বাড়ে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা পরোক্ষভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। শীতের সকালে শরীর উষ্ণ রাখতে এবং ইমিউনিটি বাড়াতে নিচের তিনটি আসন অত্যন্ত কার্যকর:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. উত্থান মণ্ডুকাসন
এই আসনটি করার জন্য প্রথমে বজ্রাসনে বসুন। এরপর দু’টি হাঁটু দু’পাশে যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দিন, যাতে ঊরু ও হাঁটু মাটি স্পর্শ করে থাকে। শরীরকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে থুতনি, বুক ও পেট মাটির সংস্পর্শে আনুন—দেখতে অনেকটা ব্যাঙের মতো মনে হবে। শুরুতে ১০ সেকেন্ড থেকে ধীরে ধীরে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত অভ্যাস করুন। তবে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য এই আসনটি করা নিষেধ।
২. উষ্ট্রাসন
হাঁটু মুড়ে বসে পিছনের দিকে হেলে দু’হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরুন। মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে পেট ও বুক সামনের দিকে এগিয়ে দিন। হাতের আঙুলগুলো এমনভাবে রাখুন যাতে বুড়ো আঙুল গোড়ালির ভেতরের দিকে এবং বাকি আঙুল বাইরে থাকে। এই ভঙ্গিতে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বজায় রাখুন। এটি মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়াতে এবং বুক প্রসারিত করতে দারুণ কাজ করে।
৩. বৃক্ষাসন
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে একটি পা ভাঁজ করে অন্য পায়ের ঊরুর ওপর রাখুন। এরপর হাত দু’টি নমস্কারের ভঙ্গিতে মাথার ওপরে সোজা করে তুলে ধরুন। পিঠ সোজা রেখে অন্তত ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষা করুন। এরপর পা বদল করে পুনরায় অভ্যাস করুন। এটি মানসিক একাগ্রতা বাড়াতে এবং শরীরের স্নায়বিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।
সতর্কতা: যেকোনো যোগাসন করার সময় শরীরের ক্ষমতার দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই আসনগুলো অভ্যাস করা উচিত।