আসন্ন মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ ‘গঙ্গাসাগর মেলা’র (Gangasagar Mela) প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের এই পবিত্র সঙ্গমস্থলে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় জমে। এই মেলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার রূপে পরিচিত মহর্ষি কপিল মুনি। কিন্তু কেন এই স্থানকে ঘিরে এত মাহাত্ম্য? এর নেপথ্যে রয়েছে পুরাণ বর্ণিত এক চমকপ্রদ কাহিনী।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!কপিল মুনি ও সগর রাজার পুত্রদের ভস্মীভূত হওয়ার কথা: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, বৈদিক ঋষি এবং ‘সাংখ্য দর্শন’-এর প্রবর্তক কপিল মুনি একদা সাগরদ্বীপে গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। সেই সময় অযোধ্যার রাজা সগর একটি অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন। দেবরাজ ইন্দ্র সেই যজ্ঞ বানচাল করতে যজ্ঞের ঘোড়াটি চুরি করে গোপনে কপিল মুনির আশ্রমের পাশে বেঁধে রাখেন। ঘোড়া খুঁজতে খুঁজতে সগর রাজার ৬০ হাজার পুত্র মুনির আশ্রমে উপস্থিত হন এবং ধ্যানে মগ্ন ঋষিকে চোর ভেবে উত্যক্ত করতে শুরু করেন। ঋষি ক্রোধে চোখ মেললে তাঁর দৃষ্টির তেজে মুহূর্তের মধ্যে রাজার ৬০ হাজার পুত্র ভস্মীভূত হয়ে যান।
ভগীরথের তপস্যা ও গঙ্গাবতরণ: পুরুষদের এই অকাল মৃত্যু ও অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য সগর বংশের উত্তরপুরুষ ভগীরথ কঠোর তপস্যা শুরু করেন। তাঁর একাগ্রতায় তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা ও শিবের আশীর্বাদে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে আসেন গঙ্গা। মহাদেব তাঁর জটায় গঙ্গার প্রবল স্রোতকে ধারণ করেন এবং ভগীরথের শঙ্খধ্বনির পথ অনুসরণ করে গঙ্গা সাগরদ্বীপের সেই ভস্মস্তূপের কাছে পৌঁছান। গঙ্গার পবিত্র বারি স্পর্শ করতেই সগর রাজার ৬০ হাজার পুত্র শাপমুক্ত হয়ে পুনর্জীবন লাভ করেন।
মকর সংক্রান্তির মাহাত্ম্য: গঙ্গা ও সাগরের এই মিলনস্থলটি আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির এক অপূর্ব সেতুবন্ধন। বিশ্বাস করা হয়, মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে এই সঙ্গমস্থলে স্নান করলে সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় এবং মোক্ষ লাভ হয়। তাই আজও প্রতি বছর হাজার হাজার পুণ্যার্থী শীতের আমেজ উপেক্ষা করে বলেন— “সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।” অর্থাৎ গঙ্গাসাগরে একবার স্নান করলেই সব তীর্থের পুণ্য অর্জিত হয়।
কপিল মুনির আশ্রম ও এই লোকগাঁথা আজও ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে আছে, যা প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ পায়।