বছরের শুরুতেই যদি কনকনে ঠান্ডার স্বাদ নিতে ভূস্বর্গ কাশ্মীরে (Kashmir) পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে গতানুগতিক ডাল লেক বা গুলমার্গের ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসতে পারেন পহেলগাঁও ও তার সংলগ্ন ৫টি মায়াবী অফবিট জায়গা থেকে। যান্ত্রিক জীবন থেকে দূরে শান্তির খোঁজে এই গন্তব্যগুলো আপনার ভ্রমণকে করবে রোমাঞ্চকর।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. লোলাব ভ্যালি: শ্রীনগর থেকে ১১৪ কিমি দূরে কুপওয়ারা জেলায় অবস্থিত এই উপত্যকাটি ‘ভালোবাসার ভ্যালি’ নামে পরিচিত। আপেল বাগান, পাইন ও দেবদারু জঙ্গল এবং পাহাড়ী জলপ্রপাতে ঘেরা এই জায়গাটি ট্রেকিং ও পিকনিকের জন্য আদর্শ। এখানে ঐতিহাসিক কালারুশ গুহা দেখার সুযোগ রয়েছে। থাকার জন্য স্থানীয় গ্রামে সুন্দর কটেজ ও হোমস্টে পাওয়া যায়।
২. ইয়ুসমার্গ: শ্রীনগর থেকে মাত্র ৪৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই সবুজ প্রান্তর আপনাকে দেবে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের খোঁজ। পাইন জঙ্গলের মাঝে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো কিংবা নীলনাগ লেকের স্বচ্ছ জলে সময় কাটানো—সবই মিলবে এখানে। মাত্র ৭৫০ টাকায় এখানে সরকারি গেস্টহাউসে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে।
৩. ব্রেং ও ডাকসুম: দক্ষিণ-পূর্ব শ্রীনগর থেকে ৮৫ কিমি দূরে ব্রেং উপত্যকা তার নদী ও পাহাড়ের মেলবন্ধনের জন্য বিখ্যাত। এখান থেকে আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ডাকসুম, যেখানে জলপ্রপাত আর পাখির কলকাকলি আপনার সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দেবে। ২০০০ টাকার মধ্যে এখানে সরকারি গেস্টহাউস পাওয়া যায়।
৪. আলপাথের জলপ্রপাত: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই এলাকায় বছরের ৯ মাসই বরফ জমে থাকে। দুর্গম পাহাড়ী পথে ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা। উচ্চতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এখানে থাকা-খাওয়ার খরচ মাথাপিছু প্রায় ৬০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
৫. গুরেজ ভ্যালি: নিরিবিলিতে ছুটি কাটানোর জন্য গুরেজের কোনো বিকল্প নেই। শ্রীনগর থেকে ১৩০ কিমি দূরের এই উপত্যকায় পৌঁছানোর রাস্তাটি বরফে ঢাকা ও পাইন জঙ্গলে ঘেরা। দূষণমুক্ত বাতাস আর পাহাড়ী নদীর সান্নিধ্য পেতে পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান। বাজেট অনুযায়ী এখানে সরকারি ও বেসরকারি গেস্টহাউস মিলবে।
নতুন বছরে বন্ধুমহলকে চমকে দিতে এবং কাশ্মীরের আসল রূপ প্রত্যক্ষ করতে এই অফবিট জায়গাগুলো আপনার ভ্রমণ তালিকায় অবশ্যই যোগ করুন।