Bangladesh
ফের সংখ্যালঘু হিন্দু হত্যার খবর বাংলাদেশে (Bangladesh)। ময়মনসিংহের (Mymensingh) ভালুকায় একটি পোশাক কারখানার ভেতরে নিরাপত্তকর্মীর দায়িত্বে ছিলেন বজেন্দ্র বিশ্বাস (৪২) নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, তাঁকে গুলি করে খুন করে আর এক সহকর্মী নিরাপত্তাকর্মী। জানা গিয়েছে, ঘটনায় আনসার সদস্য নোমান মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আনসার হল বাংলাদেশের একটি আধাসামরিক বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় একটি কারখানায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত ব্যক্তি এবং খুনে অভিযুক্ত অপরজন ওই কারখানায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কারখানার ভিতরে দুই নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। কথা বলার এক পর্যায়ে নোমান তাঁর হাতে থাকা সরকারি শটগানটি বজেন্দ্রর দিকে তাক করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিছক মজা করার ছলেই তাঁর দিকে বন্দুক তাক করেছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই গুলি চলে। বজেন্দ্রর বাঁ পায়ে থাইয়ের কাছে গুলি লাগে। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার (Arrest) করেছে পুলিশ।
ঘটনায় ব্যবহৃত শটগানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত নোমানের দাবি, অসাবধানতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এনিয়ে ওপার বাংলায় তৃতীয় সংখ্যালঘু ‘খুন’এর ঘটনা সামনে এল। এর আগে ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি-পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে মারধরের পর নগ্ন করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর আরও একটি পৃথক ঘটনায় এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এরপর ফের এমন ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা (Minority Safety) নিয়ে বারংবার প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
বজেন্দ্রর মৃত্যু নিয়ে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বজেন্দ্র এবং নোমান, দু’জনেই ডিউটি করছিলেন। কারখানার মধ্যে আনসার বারাকে মোতায়েন ছিলেন তাঁরা। দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা চলাকালীন হঠাৎ বজেন্দ্রকে লক্ষ্য করে সরকারের দেওয়া শটগান তাক করেন নোমান। রসিকতা করেই বন্দুক তাক করেন নোমান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে গুলি বেরিয়ে যায়। বজেন্দ্রর বাম উরুতে গুলি লাগে। ভালুকা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় বজেন্দ্রকে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁকে। সেখানকার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ জহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শটগানটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। বজেন্দ্রর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে। ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদে’র সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্রনাথ এই ঘটনায় সিলমোহর গিয়েছেন।