ভারতের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত অরুণাচল প্রদেশকে ভৌগোলিক কারণেই বলা হয় ‘ল্যান্ড অফ দ্য রাইজিং সান’ বা উদীয়মান সূর্যের দেশ। এই রাজ্যের আঞ্জাও জেলার ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম ‘ডং’ (Dong) হলো ভারতের সেই অনন্য বিন্দু, যেখানে দেশের প্রথম সূর্যোদয় দেখা যায়। যখন গোটা ভারত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, তখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,২৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামেই সোনাঝরা আলোয় ভোরের শুভসূচনা হয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ভৌগোলিক গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: ভারত-চীন-মায়ানমার সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই গ্রামটি এখন পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণের নাম। আগে মনে করা হতো আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে প্রথম সূর্যোদয় হয়, কিন্তু ১৯৯৯ সাল থেকে ডং গ্রাম সেই তকমা লাভ করেছে। পাহাড়, কুয়াশা আর গহীন অরণ্যে ঘেরা এই নিভৃত জনপদ পর্যটকদের মনে এক মায়াবী প্রশান্তি এনে দেয়। প্রতি বছর এখানে স্থানীয়ভাবে পালিত হয় ‘সানরাইজ ফেস্টিভ্যাল’, যা পর্যটকদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা।
ভ্রমণ পরিকল্পনা ও যাতায়াত: অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস ডং ভ্রমণের জন্য সেরা সময়। এই সময় আকাশ পরিষ্কার থাকায় সূর্যোদয় স্পষ্ট দেখা যায়। তবে বর্ষাকালে পাহাড়ী ধসের আশঙ্কা থাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো।
-
যাতায়াত: অসমের ডিব্রুগড় বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে সড়কপথে অরুণাচলের তেজু হয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। পাহাড়ী এই পথ অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
-
পারমিট: ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ইনার লাইন পারমিট (ILP) এবং বিদেশিদের জন্য প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
জরুরি কিছু টিপস: ডং অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রায় থাকে না বললেই চলে। থাকার জায়গাও বেশ সীমিত, তাই আগে থেকে বুকিং করে রাখা জরুরি। কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে সঙ্গে অবশ্যই ভারী গরম কাপড় রাখতে হবে। স্থানীয় উপজাতিদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্জন প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করা উচিত।
যান্ত্রিক জীবন থেকে দূরে ভারতের প্রথম আলোর সাক্ষী হতে এই মায়াবী গ্রামটি আপনার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয়ে থাকতে পারে।