উত্তরবঙ্গের চেনা পর্যটন মানচিত্রের আড়ালে কালিম্পং জেলায় লুকিয়ে আছে এক অপূর্ব স্নিগ্ধ গন্তব্য— ‘গুম্বাদারা’ (Gumbadara)। পাহাড়ের ওপর বিস্তৃত সমতলে অবস্থিত এই দুধসাদা বৌদ্ধ মঠটি যেমন শান্ত, তেমনই এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ চোখজুড়োনো। পাইন বনের সারি, তিব্বতি শিক্ষার্থীদের কোলাহল আর হিমেল হাওয়ার পরশ এই স্থানটিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!স্থাপত্য ও দৃশ্যপট: গুম্বাদারা মনাস্ট্রির প্রবেশপথে রয়েছে বিশাল এক তোরণ এবং একটি বড় প্রার্থনাচক্র। দূর থেকে দেখলে মঠটিকে অনেকটা বড় বৌদ্ধ স্তূপের মতো মনে হয়। রোদ ঝলমলে দিনে মন্দিরের চূড়ায় বসানো সোনালি মূর্তিটি যখন ঝকঝক করে ওঠে, তখন এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। দোতলার বিশাল প্রার্থনাকক্ষে রয়েছে বুদ্ধের শান্ত মূর্তি এবং দেওয়ালে রঙিন বৌদ্ধ চিত্রকলা। মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে এখান থেকে হিমালয়ের অপরূপ রূপ উপভোগ করা যায়।
আশেপাশের আকর্ষণ: লাভা থেকে এই মঠের দূরত্ব মাত্র সাড়ে সাত কিলোমিটার। লাভার ঘন অরণ্যের বুক চিরে যাওয়া পাহাড়ি পথ আপনাকে পৌঁছে দেবে এই নির্জনতায়। গুম্বাদারার পাশেই রয়েছে ‘নকদ্বারা ভিউ পয়েন্ট’। একটি কৃত্রিম জলাশয়কে কেন্দ্র করে এখানে সুন্দর বাগান সাজানো হয়েছে এবং পর্যটকদের জন্য রয়েছে বোটিংয়ের ব্যবস্থা। এ ছাড়া কাছেই রয়েছে লোলেগাঁও পার্ক এবং বিখ্যাত লাভা মনাস্ট্রি। তবে মনে রাখবেন, ‘গুম্বাদারা ভিউ পয়েন্ট’ নামে অপর একটি জায়গা আছে যা তিনচুলের কাছে অবস্থিত।
কীভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন: শহর থেকে দূরে পাহাড়ের বুকে একান্তে সময় কাটাতে চাইলে কাফেরগাঁও হতে পারে থাকার সেরা জায়গা। এখানে প্রচুর হোম-স্টে রয়েছে যেখান থেকে মেঘেদের আনাগোনা স্পষ্ট দেখা যায়। এ ছাড়া লাভাতেও হোটেল ও হোম-স্টের সুব্যবস্থা আছে। শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) বা নিউ মাল জংশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে সহজেই লাভা অথবা কাফেরগাঁও পৌঁছে যাওয়া যায়।
লাভা-লোলেগাঁও ভ্রমণে যারা যান, তারা ভিড় এড়িয়ে একটু অগোচরে থাকা এই ‘গুম্বাদারা’কে অনায়াসেই নিজেদের ভ্রমণ তালিকায় যুক্ত করতে পারেন। পাহাড়ের নির্জনতা আর আধ্যাত্মিক শান্তির এক দারুণ মিশেল এই বৌদ্ধ মঠ।